মানিকছড়ি

প্রকাশ্যে পাহাড়কাটা

প্রশাসন নির্বিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

মানিকছড়ি উপজেলা সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে এক মাস ধরে স্কেকেভেটর দিয়ে চলছে পাহাড়কাটা। পাহাড়কাটার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কাজ চললেও প্রশাসন একধরণের নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এ ঘটনার ব্যাখ্যায় অবশ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও বলছেন, মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে কিছুদিন আগে একটি আবেদন জমা পড়েছে। তবে কোনটা পাহাড় আর কোনটা মাটি; এ বিষয়ে সুরাহা হবার আগেই রাতদিন সমানতালে চলছে পাহাড় কাটা আর পাহাড়কাটা মাটির রমরমা ব্যবসা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত একমাস ধরে জেলার মানিকছড়ি উপজেলা সদরে মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি বিশালাকার পাহাড় কেটে নিজ বসতবাড়ির পুকুর ভরাট করছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই সভাপতি মো. শফিকুর রহমান ফারুক। তিনি একাধারে জেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক এবং মানিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়কাটা মাটি সরিয়ে নাথ পাড়াস’ নিজ মালিকানাধীন পুকুর, জলাশয় প্রভৃতি নিম্নাঞ্চল ভরাট করে উচু করছেন মো. শফিকুর রহমান ফারুক। মানিকছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক লাগোয়া এলাকায় প্রকাশ্যে দিনের পর দিন এই পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষও বিস্মিত। কিন’ কারও কিছু বলার সাহস নেই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব চক্রবর্তী জানান, একটি কলেজ করার পরিকল্পনা থেকেই পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পাহাড়কাটার মাটি দিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনের কিছু অংশ ভরাট শেষে বাকি মাটি স্কুলের সভাপতি নিজে নিয়ে গেছেন।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ফারুককে একাধিকবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
মানিকছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া আফরোজ সুপ্রভাতকে জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি নতুন প্রতিষ্ঠান করার কথা উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদে একটি আবেদন দিয়েছেন। তবে এটি এখনো ফয়সালা হয়নি। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে।