নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

মধ্যযুগীয় কায়দায় ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Sifat.News.pic-2

নগরীর নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত রোববার ঘটনাটি ঘটে।
নিযাতনের শিকার শিক্ষার্থী সুতনু সব্যসাচী আদিত্য স্কুলের নবম শ্রেণির প্রাতঃশাখার ছাত্র। সে নগরীর নন্দনকানন এলাকার সমর বড়ুয়ার ছেলে।
সুতনু সুপ্রভাতকে বলে, ‘রোববার শিক্ষক আলাউদ্দিন ইংরেজি ক্লাসে নিতে রুমে ঢুকছিলেন। তখন আমার ইংরেজি বইটি সহপাঠী আলোকের কাছে ছিল। তাই তার নাম ধরে ডেকে ইংরেজি বই দিতে বলি। কিন্তু স্যার মনে করছেন আমি ব্যাঙ্গ করে তার নাম ধরে ডেকেছি। এরপর তিনি আমার দুই পায়ে বেত দিয়ে পেটাতে থাকেন। ওইসময় সহপাঠী আলোক স্যারকে তাকে ডাকার কথা বললেও তিনি শুনেননি। পরে তিনি আমার মা-কে ফোন করেন।
এ ব্যাপারে সুতনুর মা রুম্পা সেন সুপ্রভাতকে বলেন, রোববার স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আলাউদ্দিন ক্লাসে নিতে রুমে ঢুকছিলেন। এসময় আমার ছেলে তার বন্ধু আলোককে নাম ধরে ডাকে। কিন্তু শিক্ষক আলাউদ্দিন তাকে ব্যাঙ্গ করে ডাকার অজুহাতে আমার সন্তানকে নির্যাতন করে। পরে আমাকে ফোন দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
রুম্পা সেন বলেন, ঘটনার পরদিন আমি স্কুলে গেলে ওই শিক্ষক আমার সামনে ছেলেকে কান ধরে সারা স্কুল ঘুরতে বলেন। তখন আমি প্রতিবাদ জানাই। এছাড়াও স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম হোসাইনী আমার ছেলেকে ক্রিমিনাল সম্বোধন করেন। তবে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান শিক্ষক আমাকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যান। এরপর পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
সুতনুর বাবা সমর বড়ুয়া সন্তানের নির্যাতনের ছবি দিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি লিখেন, ‘দাগগুলো আমার বড় ছেলে সুতনু সব্যসাচী (আদিত্য’)র। এক এক বার যখন দেখি বুকে মোচর দিয়ে উঠে। ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে আছি। তাই আদর করতে পারছি না। একটু যদি বুকে নিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ থাকতে পারতাম। যার ছেলে সেই বোঝে।…. ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আমার স্ত্রী ঘটনার পরের দিন স্কুলে দেখা করতে গেলে আরেক হেনস্থা। কন্ডিশন দিলেন আপনার ছেলেকে কানে ধরে পুরা স্কুল ঘুরতে হবে। নয়তো টি. সি. দিয়ে দিবে এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দিয়ে ছাত্রত্ব বাতিল করবে। শিক্ষকদের শাষণ করার অধিকার আছে, থাকবে। এভাবে গরুর মতো পিটিয়েছে তাও কষ্ট চেপে মেনে নিয়েছি। কিন্তু এর পরের বিষয়গুলি ও কি মানা উচিত? একটা ছাত্র দোষ না করেও বেদম প্রহার খেলো। অতপর: তাকে যদি কান ধরে সারা স্কুল ঘুরতে হয়। তার কি আর মানসিক ভারসাম্য থাকবে! শুরুতেই লিগ্যাল স্টেপ আমি নিতে পারতাম কিন্তু আমি চাইনি এই ঘটনা নিয়ে তার কোমল মনে কোন কালো ছাপ পরুক।
মোটেও চাইনি এই ছোট বয়সে আমার ছেলে তার শিক্ষককে প্রতিপক্ষ ভাবুক।’
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম হোসাইনীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার কর করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।