ভালো দাম পেয়ে খুশি বিক্রেতারা

হালদা পাড়ে রেণু বিক্রির ধুম

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাটহাজারী

উৎসবমুখর পরিবেশে মা মাছের ডিম সংগ্রহ ও তা থেকে কৃত্রিম উপায়ে রেণু ফোটানো শেষ। হালদা পাড়ে চলছে এখন রেণু বিক্রির ধুম। গত ৫-৬ দিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে মাটির কুয়া ও হ্যাচারির কুয়াতে কৃত্রিম উপায়ে রেণু ফোটানোর পর গতকাল থেকে রেণু বিক্রয় শুরু করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রতি কেজি রেণুর দাম পড়ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। উপযুক্ত দাম পেয়ে খুশি রেণু বিক্রেতারা।
হাটহাজারী উপজেলার ৩টি হ্যাচারি থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা এই রেণু বিক্রয় করছেন ক্রেতাদের কাছে। রেণু ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন হালদা পাড়ে। আগামী আরও ২-৩ দিন এই রেণু বিক্রয় উৎসব চলবে বলে জানান উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ও রেণু বিক্রেতারা।
হালদা পাড়ের কয়েকজন রেণু বিক্রেতা জানান, এবার সৌভাগ্যবশত হালদা নদীতে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি ডিম পাওয়া গেছে। কিন’ মৎস্য কর্মকর্তা ও হ্যাচারির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে এবং হ্যাচারির কুয়াগুলো নষ্ট থাকায় কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারীর ডিম ও রেণু নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও ডিম থেকে যে পরিমাণ রেণু পাওয়া গেছে তা উপযুক্ত দামে বিক্রয় হওয়ায় তাদের কষ্ট অনেকটা স্বার্থক মনে করছেন বিক্রেতারা।
হালদার পাড়ে রেণু ক্রয় করতে আসা লিয়াকত হোসেন জানান, আমি ২-৩ কেজি রেণু কেনার ইচ্ছে নিয়ে এখানে এসেছি। কিন’ রেণুর দাম একটু চড়া হওয়ায় দেড়কেজি কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
ডিম সংগ্রহকারী ও রেণু বিক্রয়কারী আনোয়ার হোসেন জানান, আমি নোয়াখালীর এক লোকের কাছে পানিসহ ৭৫ হাজার টাকা করে এক কেজি রেণু বিক্রয় করেছি। আরো ক্রেতা আসছে, সবাইকে একই দরে বিক্রয় করব।
হাটহাজারী উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম সুপ্রভাতকে জানান, উপজেলার হ্যাচারিগুলোতে রেণু বিক্রয়কারীরা তাদের রেণুগুলো সুষ্ঠুভাবে বিক্রয় করছেন, তারা উপযুক্ত দামও পাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতাসমাগমও হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। সবমিলিয়ে হালদা পাড়ে চলছে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী আরও কয়েকদিন এই রেণু বিক্রয় উৎসব চলবে।