‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, জনসংখ্যা ও ভৌগোলিকভাবে জেলার মধ্যে চকরিয়া উপজেলার আয়তন অনেক বড়। এই উপজেলায় চিংড়িজোন, কৃষি, আবাসনখাত ও নানা ধরনের ব্যবসাসহ বিভিন্ন সেক্টরে অথনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন নতুন সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিটি সেক্টরকে ঢেলে সাজাতে পারলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন সময়ের ব্যাপার মাত্র। চার লাখ মানুষের এই জনপদে পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃক্সখলার আরো উন্নতির লক্ষে আগামীতে মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়িকে থানা হিসেবে রূপান্তর ও হারবাং পুলিশ ফাঁড়ি নিজস্ব জমিতে নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান কার্যক্রম অচিরেই শুরু করা হবে। এছাড়া নির্মিতব্য রেল লাইনের জন্য অধিগ্রহণকৃত চকরিয়া উপজেলার প্রত্যেক জায়গার মালিকরা যথাসময়ে সরকারিভাবে ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের টাকা পাবে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বিভিন্ন জনের প্রশ্নোত্তরে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সভায় চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজি আবু মো. বশিরুল আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক চকরিয়া উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল কেন তা তদন্ত করে জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, এসএম জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল, নারী ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়া বেগম শম্পা, এমআর মাহমুদ, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, অধ্যক্ষ আকম গিয়াস উদ্দিন, ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ, মুক্তিযোদ্ধা আবু মো. বশিরুল আলম, আবদুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানে উপসি’ত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমি খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আরাফাত, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক সোলতান আহমদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ, সিনিয়য় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুর রহমান, জনস্বাস’্য প্রকৌশলী কামাল হোসেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফেরদৌসী আক্তার দীপ্তি, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রনী সাহা, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জোবায়ের হাসান, ডুলাহাজারা কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ এসএম মনজুর, সনাক চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক একেএম সাহাবুদ্দিন, উপজেলা বিআরডির চেয়ারম্যান সেলিম উল্লাহ, চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহিদ উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর, বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার, কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন, পুর্ববড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল, বমুবিলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতলব, ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ডা. মীর আহমদ হেলালী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ উল্লাহ, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আখের। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবি, শিক্ষক, আলেম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সকলস্তরের নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি সেক্টরের আওতায় যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে তা সুচারুভাবে সমাপ্ত করতে সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। তাহলেই সরকারের ঘোষিত ২০৪১ সালের ভিশনের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুকপ্রথা, জঙ্গিবাদ ও ইভটিজিংয়ের মতো অসংগতিসমূহ দূর করতে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষ সকল নাগরিককে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক চকরিয়া উপজেলার ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে খাসজমির সৃজিত দলিল হস্তান্তর, কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।