মোবাইল অপারেটরগুলোকে বকেয়া কর পরিশোধের নির্দেশ

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে দ্রুত বকেয়া কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সোমবার এনবিআর ভবনে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সঙ্গে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় কর ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যামটব মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির, অ্যামটবের সহসভাপতি রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস’াপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন। আলোচনায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও অন্যান্য ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে অ্যামটব। এর বাইরে মোবাইল শিল্প বিকাশে মোট ১০টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। খবর বাংলা ট্রিবিউন এর।
সভায় অ্যামটবের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুল্ক কমে গেলে মোবাইল অপারেটররা প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেশব্যাপী ব্যবসা সমপ্রসারণে সক্ষম হবে। ফলে পরিকল্পিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কাজ আরও বেগবান হবে। অ্যামটব মহাসচিব নুরুল কবির প্রাক-বাজেট এই আলোচনায় বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটের ওপর ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জ আরোপ করা আছে। আগামী বাজেটে এই কর অব্যাহতির প্রস্তাব করছি। এ ছাড়া, ইন্টারনেট মডেমের ওপর আমদানি পর্যায়ে ৪ শতাংশ ও ক্রেতার কাছে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়, যা সম্পূর্ণ মওকুফের আবেদন করছি।
এ সময় মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাট ও অন্যান্য কর মওকুফের প্রয়োজন। এই ভ্যাট তুলে দিলে সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সহজলভ্য হবে। এতে অপারেটরদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারও ঘটবে। প্রাক-বাজেট সভায় জানানো হয়, বতর্মানে মোবাইল অপারেটরদের প্রতিটি সিম বা রিম বিক্রির জন্য ৩৬ দশমিক ৬৫ টাকা ভ্যাট এবং ৬৩ দশমিক ৩৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়, যা সম্মিলিতভাবে সিম ট্যাক্স (১০০ টাকা) নামে পরিচিত। এর বাইরে সিম প্রতিস’াপন করতে হলে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হয় গ্রাহককে।
আলোচনা সভায় মোবাইল ফোন বিলকে উৎসে কর আওতামুক্ত রাখা, দ্বৈতকর পরিহার, কর্পোরেট কর যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা, অমীমাংসিত ট্যাক্স আপিলের জন্য করের প্রদেয় হার কমানোর পাশাপাশি ফোরজি ফোন আমদানিতেও সুবিধা চেয়েছে সংগঠনটি।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘পত্রিকার খবরে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, আপনারা কর-ভ্যাট ঠিকমতো পরিশোধ করেন না। শিগগিরি বকেয়াগুলো পরিশোধ করে দেবেন। মামলা-মোকাদ্দমাগুলোতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে (এডিআর) আসেন। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মামলা ঝুলে থাকলে রাজস্ব আয় কম হয়। আপনাদেরও সুনাম নষ্ট হয়।’