মিরসরাইয়ে লেবু চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

প্রায় ১০ বছর আগে ২’শটি কলবি লেবুর চারা গাছ কিনে রোপন করে উষা ত্রিপুরা। প্রত্যেকটি চারা গাছে দাম পড়ে ১০ টাকা। গাছগুলো লাগানোর ২ বছর পর থেকে ফলন দেয়া শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স’ান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে তার কাছ থেকে লেবু কিনে নিয়ে যায়। লেবু চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। কথাগুলো বলছিলেন মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখীল উপজাতি পাড়ার বাসিন্দা ঊষা ত্রিপুরা। মিরসরাইয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ঊষা নয় লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। এছাড়া খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় লেবু চাষে উৎসাহী হচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলার ৫টি বাজারে দৈনিক লক্ষাধিক টাকার লেবু বেচাকেনা হয়ে থাকে। তবে একাধিক লেবু চাষি অভিযোগ করেন সিন্ডিকেটের কারণে তারা উপযুক্ত মূল্য পান না।মিরসরাই কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে এবছর ৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ করা হয়েছে। শুধু করেরহাট ইউনিয়নের চাষ হয়েছে ২৫ হেক্টর লেবু। সরেজমিনে করেরহাট ইউনিয়নের কালাপানি ও সাইবেনীখীল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি লেবু বাগান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ছুটে এসেছে লেবু ক্রয় করতে। লেবু ক্রয়ের জন্য বাগানের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে অস’ায়ী ঘর। সাইবেনীখীল এলাকার লেবু চাষি ঊষা ত্রিপুরা আরো জানান, তিনি ৩ একর জমিতে লেবু চাষ করেছেন। চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। এছাড়া বাগানে কয়েক লাখ টাকার লেবু রয়েছে। প্রতি বস্তা লেবু বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। চাষি দেলোয়ার হোসেন এবছর লেবুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা উপযুক্ত দাম পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। কুমিল্লার লাকসাম থেকে আসা লেবু ক্রেতা মোতালেব জানান, করেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত লেবুর সুনাম রয়েছে। মিরসরাই কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, মিরসরাইয়ে সবচেয়ে বেশি লেবু চাষ হয় করেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলে। এবছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ করা হয়েছে।