রমজান আসন্ন

মূল্য নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে এখনই

সম্পাদকীয়

প্রতি রমজানে দেশে এক দফা মূল্যবৃদ্ধি ঘটে ভোগ্যপণ্যের। দাম বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের অজুহাতের কমতি থাকে না তখন। অনেকে একচেটিয়া আমদানি করে, কখনো গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় আমদানি স্বল্পতা ও বৈদেশিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতও দাঁড় করানো হয়। অর্থাৎ রমজান এলে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার টালমাটাল হয়ে ওঠে। যার যেমন ইচ্ছা সেভাবে দাম বৃদ্ধি করে সবাই। সে ক্ষেত্রে আমদানিকারকের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ায় পাইকারি ব্যবসায়ী, আবার পাইকারি ব্যবসায়ীর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারা। বাজার একচেটিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে থাকায় সরকারও অসহায় হয়ে পড়ে পরিসি’তি মোকাবেলায়।
তবে এ বছর একটু আশাব্যঞ্জক খবর জানা গেল পত্রিকান্তরে। তার বরাতে জানা গেছে রমজানকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে এ বছর। ছোলা, পেঁয়াজ, তেল, চিনি, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্য চাহিদার তুলনায় বরং বেশি এসেছে। খালাসের অপেক্ষায় আছে ১৪টি ভোগ্যপণ্য বোঝাই জাহাজ। অপেক্ষমাণ আছে আরও আটটি। কয়েকদিনের মধ্যেই জাহাজের পণ্য খালাস হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হওয়ায় এবারের রমজানে সি’তিশীল থাকার কথা ভোগ্যপণ্যের বাজার। ওয়াকেবহাল সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও গত বছরের তুলনায় এ বছর পণ্যের দাম কম। অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে এ বছর ট্রেডিং করপোরেশন অব-বাংলাদেশ (টিসিবি) পর্যাপ্ত প্রস’তিও নিয়েছে এরই মধ্যে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি এ বিষয়ে বলেছেন, রমজানকে সামনে রেখে এ বছর চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশের অন্যতম শীর্ষ এক ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকও আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আমদানি পণ্য দ্রুতসময়ে খালাস করতে বন্দরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সে সাথে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি রমজানে যে কোনো ছুতোয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে থাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সে সাথে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় নকল-ভেজাল-মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এই চাপ পড়ে দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে অসচ্ছল পরিবারগুলোর ওপর। এ পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট ও নিয়মিত নয়। মাঝে-মধ্যে বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালিত হয়, অভিযানের পর পরিসি’তি পূর্বাবস’ায় ফিরে যায়। এমন কি প্রতিটি দোকানের সামনে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ দোকানে এই নিয়ম মানা হয় না।
এ বছর আগে থেকে যেহেতু পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রস’তি নেওয়া হয়েছে সেহেতু আমরা আশা করবো মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকার ক্রেতাদের সঠিক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।