শিক্ষকের মর্যাদা

রাবেয়া জাহান নীলা

ছোটবেলায় বইতে পড়েছি গুরুজনে ভক্তি কর। বড় হয়ে বাস্তবে তা শিখেছি। বাবা/মায়ের পর শিক্ষক/শিক্ষিকা আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ও গুরুজন। আমাদের শিক্ষক ক্লাসে এলে আমরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতাম। তাদের পাঠ মন্ত্রমুগ্ধের মত আকর্ষণ করত।
বর্তমান সময়ে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক অনেক কাছের, অনেক গভীর। বন্ধুর মত। তাই বলে কি শিক্ষকের মর্যাদা এতটাই নিচে নেমে যাবে। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা, অপমান করা বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়তই চলছে। ছেলেমেয়েরা টিভিতে দেখে মুখে হাত দিয়ে বলছে, মা, শিক্ষকদের কি মারতে হয়। এ প্রশ্নের উত্তর কি দেয়া সম্ভব? আমরা সবাই শিক্ষক মহোদয়ের কাছে পড়ে বড় হয়েছি। তাদের সম্মান করতে শিখেছি। কিন’ আজ সম্মান দেয়াটা সমাজ থেকে ওঠে গিয়েছে।
আমরা জানি না, কিভাবে বড়দের সম্মান করতে হয়। আর ছোটদের স্নেহ করতে হয়। আজকের যুবসমাজ? তাদের ভাল মন্দের জন্য ডাক দেয়াই অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই তারা বেড়ে উঠছে।
সমাজ আজ উল্টো পথে চলছে। মহাজ্ঞানীদের অনুসরণ করেইতো আমদের পথ চলতে হবে। যেদিকে তাকাই সেদিকেই অন্ধকার। প্রার্থনা করি, এ ধরনের অশোভন, রুচিবিহীন পরিবেশ থেকে আমাদের সন্তানরা বেরিয়ে আসবে। সুন্দর হোক তাদের পথ চলা। কখনই যেন কোন শিক্ষক/শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা লাঞ্ছিত বা অপমানিত না হন। শিক্ষকদের মর্যাদা যেন কোনভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়।
শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব সমাজের, রাষ্ট্রের। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক-সদস্য-সদস্যাদেরও ভূমিকা আছে। শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালনা পরিষদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব অনভিপ্রেত। অর্থবিত্ত আর সামাজিক প্রতিষ্ঠার কারণে সমাজের অনেক কেউকেটা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। একসময় সমাজে শিক্ষকরাই সর্বাগ্রে মর্যাদার আসনটি পেতেন। আজ সেই সময়, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই শিক্ষা, শিক্ষকের মর্যাদা আবার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
লেখক : প্রাবন্ধিক