স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা চেয়ে চসিকের চিঠি

পাঁচ হাট-বাজারের কাঙ্খিত দর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজেদের অধীনে পরিচালিত ২১টি হাট-বাজার ১৪২৫ বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ হতে ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে ১৬টি হাট-বাজারের কাঙ্খিত ইজারামূল্য পাওয়ায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের নিকট ইজারা দেওয়া হয়। একটি বাজার (হামিদ উল্লা খান বাজার) পর পর চার বার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সত্বেও কোন দরপত্র জমা পড়েনি। অন্যদিকে বাকি চার হাট-বাজারের বিপরীতে চার বার দরপত্র আহ্বান করা সত্বেও কাঙ্খিত মূল্য পায়নি চসিক। এমতাবস’ায় চার হাট-বাজারের ইজারা প্রসঙ্গে করণীয় জানতে গতকাল রোববার স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছে চসিক।
এস্টেট শাখা সূত্র জানায়, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, চারটি বাজারের ইজারা মূল্য কাংখিত ইজারা মূল্যের চেয়েও কম। অধিকন’ সাগরিকা গরু বাজারের ৪র্থ বার প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে কোন দরপত্র পাওয়া যায়নি। তবে ৩য় বারে দাখিলকৃত দর ৪র্থ বারে বহাল রাখার জন্য একমাত্র দরদাতা আবেদন করেছেন।
চিঠিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে, ৭ কোটি ৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকার কাঙ্খিত মূল্যের বিপরীতে তৃতীয় দফা দরপত্রে সাগরিকা গরু বাজারের মূল্য উঠেছে ৬ কোটি ৭ হাজার ৭৮৬ টাকা। ২ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১৪৬ টাকার কাঙ্খিত মূল্যের বিপরীতে ৪র্থ দফা দরপত্রে বিবির হাট গরু বাজারের দর উঠেছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৪২ টাকা। ৫ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৬ টাকা কাঙ্খিত দরের বিপরীতে দেওয়ান হাটের দর উঠেছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকার কাঙ্খিত মূল্যের বিপরীতে কমল মহাজন হাটের দর উঠেছে ৫০ হাজার টাকা।
চিঠিতে হাট-বাজারের কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ার সম্ভাব্য ৭টি কারণের কথা বলা হয়েছে। কারণগুলো হলো- সাগরিকা গরু বাজার বেসমেন্ট এরিয়া যেমন: আমান বাজার, মইজ্যারটেক ও বিভিন্ন এলাকায় গরু বাজার সৃষ্টি, এ বাজারের আশে-পাশে রাস্তার উপর গরু রাখা এবং বাজারের পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের বিষয়ে জমির মালিকের অনীহা, এ বাজারে গরু ব্যবসায়ীদের রাত্রি যাপনের ব্যবস’া না থাকা, বিগত বছরের ইজারাদার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সাগরিকা গরু বাজার ও বিবির হাট গরু বাজারের বিষয়ে ৬ শতাংশ সরকারি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরও প্রতি বছরের ন্যায় পবিত্র ঈদুল আযহার সময় রাস্তার উপর পশুর হাট বসতে না দেওয়া, বাজারের আশপাশের ভাড়াকৃত খালি জায়গায় ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ হওয়া, খালি জায়গাসমূহের কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশর সীমানার সাথে লাগানো মইজ্যারটেক নামক স’ানে অবৈধ পশু বাজার হতে খুব সহজে পশু ক্রয়ের সুযোগ থাকা।
চিঠিতে এমতাবস’ায় সাগরিকা গরু বাজারের বিপরীতে ৩য় বার প্রাপ্ত ৬ কোটি ২৭ লাখ ৭৮৬ টাকার দর, বিবির হাট গরু বাজারের বিপরীতে ৪র্থ বার প্রাপ্ত ১ কোটি ২৭ লাখ ৭১২ টাকার দর, দেওয়ান হাট কাঁচা বাজারের বিপরীতে ৪র্থ বার প্রাপ্ত ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার দর এবং কমল মহাজন হাটের বিপরীতে ৪র্থ বারের ৫০ হাজার টাকার প্রাপ্ত দরসমূহ দরপত্র কমিটির সুপারিশের আলোকে গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য স’ানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা।
মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মো. সামসুদ্দোহা গতকাল রোববার রাতে মুঠোফোনে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী পর পর তিন বার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও কোন যদি হাট-বাজারের জন্য কাঙ্খিত দর না পাওয়া যায়, সে সেক্ষেত্রে ওইসব হাট-বাজার ইজারা দিতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমাদের কাছে সময় থাকাতে আমরা চার বার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। তারপরও চারটি হাট-বাজারের জন্য কাঙ্খিত দর পাওয়া যায়নি। তাই আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছি এবং এতে প্রাপ্ত দর অনুযায়ী হাট-বাজারগুলো ইজারা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’