পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস মিলছে না

চুক্তিবদ্ধ লোডের ৬০ শতাংশ বিল নিচ্ছে কেজিডিসিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) আওতাধীন নেটওয়ার্কের সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস প্রেসার নেই দীর্ঘদিন ধরে। ফলে সাধারণ গ্রাহকসহ চট্টগ্রামের অধিকাংশ শিল্প গ্রাহক চুক্তিবদ্ধ লোড অনুযায়ী গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে না। এতে, একদিকে সাধারণ গ্রাহকরা চাহিদা মত গ্যাস পাচ্ছে না। অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অপরদিকে কর্ণফুলী গ্যাসের সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস প্রেসার না থাকলেও শিল্প গ্রাহকেরা গ্যাস ভোগ না করেই তাদের মোট চুক্তিবদ্ধ লোডের ৬০ শতাংশ হারে ন্যূনতম বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল্ লিমিটেড (বিএসআরএম)।
জানা যায়, এসব সমস্যা থেকে সমাধানের জন্য বিএসআরএম থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে গত ২৯ মার্চ একটি চিঠিও পাঠানো হয়। একই চিঠি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বরাবরও পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে অপর্যাপ্ত গ্যাস প্রেসার ও পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস ভোগ না করে চুক্তিবদ্ধ লোডের ৬০ শতাংশ পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল্ লিমিটেড (বিএসআরএম) এর নির্বাহী পরিচালক তপন সেনগুপ্ত সুপ্রভাত বাংলাদেশকে জানান, বেশ কিছু দিন ধরে খুব বাজে অবস’া গ্যাস সরবরাহের। বর্তমানে আমরা চুক্তিবদ্ধ লোডের প্রায় ২০ শতাংশের মত গ্যাস পাচ্ছি। এতে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ফলে আমাদের ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস প্রবাহের তারতম্যের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হওয়ায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তপন সেনগুপ্ত আরো বলেন, ‘বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ লোডের ৬০ শতাংশ হারে ন্যূনতম বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। কেজিডিসিএল ও বিএসআরএমের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মধ্যে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, যদি কোন কারণে গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা, বিঘ্ন, চাপের তারতম্য ঘটে তাহলে গ্রাহক ন্যূনতম বিল দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে এবং প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল পরিশোধ করবে।
একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি গ্রাহকদের নিকট হতে বিরাট অংকের ন্যূনতম গ্যাস বিল আদায় করছে যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। চট্টগ্রামে শিল্প এলাকার গ্যাসের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষকে বারবার মৌখিক ও পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হলেও কোনরূপ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এতে বিপুল পরিমাণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
এসব কর্মকর্তারা আরো জানান, বেশ কিছু কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছে না। গ্যাস সংকট, বিদ্যমান সরবরাহ লাইনে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গ্যাস চাপ কম হওয়া ইত্যাদি।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন বলেন, ‘আমরা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছি। তবে বিএসআরএমের বিষয়টি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এলএনজি আসলে সমস্যাটা আর থাকবে না। তাছাড়া আমি নতুন এসেছি। ’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃক আয়োজিত পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান মন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই-ইলাহী ন্যূনতম বিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ না করে চুক্তিবদ্ধ লোডের অর্ধেকের কম গ্যাস সরবরাহ করে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি ৬০ শতাংশ ন্যূনতম গ্যাস বিল আদায় করছে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।’