শুভ নববর্ষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সম্প্রীতি আর সমৃদ্ধির উদভাসন হোক

সম্পাদকীয়

মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেলো একটি বছর, নতুন বছরের সূর্যোদয় রক্তিম আভা ছড়িয়ে দেবে, আমরা আহবান জানাবো বৈশাখের প্রথম প্রভাত। বিগত বছরের গ্লানি-ব্যর্থতা-হতাশা ভুলে শান্তি, সম্প্রীতি আর সমৃদ্ধির আশায় নতুন বছরকে বরণ করে নেবে বাংলাদেশের মানুষ। বিশ্বের বাঙালি সমাজ।
পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলনীর নানা আয়োজন শহরে, বন্দরে-গ্রামে। এই ধরনের সম্মিলনী মানুষের মনে সহমর্মিতা জাগায়। দীনতাকে ছাপিয়ে মহতের উজ্জীবনে অভিষিক্ত হয় মানুষ। দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় এবং প্রশাসন, অর্থনীতির কাজে শহরের মানুষের কাছে ইংরেজি প্রাধান্য পেলেও আমাদের গ্রামীণ জীবনে, কৃষি ও দৈনন্দিন নানা অনুষ্ঠানে বাংলা সন তারিখ অনুসরণ করা হয়। গ্রাম ও শহরে পহেলা বৈশাখ তথা নববর্ষের সূচনায় পারিবারিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বহুমুখি তৎপরতা দেখা যায়, তাতে কেবল অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরা পড়ে না বরং বন্ধুবান্ধব, স্বজন-পরিজন, গ্রামীণ সমাজ মিলে সম্প্রীতির যে আবহ তৈরি হয় তাতে আমাদের বাঙালি সমাজের চিরায়ত ও অমলিন মানসসম্পদের উজ্জ্বলতা ধরা দেয়। আমাদের দেশের আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের লোকায়ত বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি নিয়ে উদযাপন করছে নববর্ষ। বিশ্বের নানা প্রান্তের বাঙালি সমাজ নববর্ষে উৎসবে মেতে উঠবে।
বিগত বছরটি মোটামুটি ভালভাবে কেটেছে, রাজনীতির আবহাওয়া সহনীয় ছিল। কিছু পণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষকে কষ্ট দিয়েছে তবে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিগত বছরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দেশবাসী মর্মাহত হয়েছে। আমরা আশা করব, নতুন বছরে সরকার দেশের সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিকর জীবন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেবে। আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সামাজিক সুসি’তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা ও উদার সমাজচিন্তার প্রয়োজন। এ বছরটিতে জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা চাই সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত থেকে সকল দল নির্বাচন তথা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশ নেবে।
দেশে উন্নয়ন-অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক-সামাজিক বৈষম্য প্রবল। বৈষম্যের অবসান, দুর্নীতি হ্রাস এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ন্যায্যতা ও আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সমৃদ্ধি, স্বস্তি ও প্রত্যাশার পরিপূর্ণতায় ভরে উঠবে আগামী বছরের দিনগুলি-দেশবাসীর একান্ত কামনা এটি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথায় আমরা উচ্চারণ করি, ‘আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত/গিরিগুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত/সৃজিব নূতন ভবিষ্যৎ”। নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার প্রেরণা নিয়ে আসুক নতুন বছর। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।