নতুন জামা দেবে

দীপক বড়ুয়া

এবার নতুন বছরে নতুন জামা দেবে দাদু। কী খুশি রাশির। নতুন বছর আসার মাত্র ক’দিন বাকি। সন্ধ্যে হলেই রাশি প্রতীক্ষায় থাকে, কখন দাদু ফিরবে। নতুন জামা আনবে!
একসময় রাশি ঘুমিয়ে পড়ে।
মনে থাকে না দাদুর কথা। দাদু ফিরতে অনেক রাত হয়। আজ রাশির জন্য জামা এনেছে। ভারি সুন্দর। ফ্রিন্টের। লাল সবুজের ফুলে।
পাখি ডাকার অনেক আগে রাশির ঘুম ভাঙে। রাশি শোয় দাদুর পাশে। দাদুকে রাশি ডাকে না। রাশি জানে, দাদু আজ সত্যিসত্যি জামা আনবে।
ঘরের নীল ভাল্বের আবছা আলোয় ঘরের সব দেখা যায়।
রাশি চোখ রাখে ঘরের সবকিছুতে। আলনা, টেবিল, আলমীরার পাশ। না, কোথাও জামা নেই।
মনে মনে রাগে। দাদুটা কি! কাল পহেলা বৈশাখ, অথচ আজকেও নতুন জামা আনেনি। পাশের নারিতা, নোরা, অহনা, অর্চির বাবারা সবার জন্য নতুন জামা এনেছে।
ওমা কি কাণ্ড!
দাদুর বালিশের পাশে রাশির জন্য রাখা নতুন জামাটা। আধো আঁধারেও চকচক করছে। ইস্ কি সুন্দর জামা। দাদুর পছন্দ আছে।
কালকে এই নতুন জামা পরে মন্দিরে যাবো। সিআরবিতে যাবো।
দাদুকে জিগ্যেস না করে নতুন জামাটা পরে রাশি। বিছানা থেকে নেমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে।
মনেমনে বলে,বাহ্ ভারি সুন্দরতো! সবাই আমার জামা দেখে চমকে যাবে। কি মজা!
একসময় দাদুর ঘুম ভাঙে। চোখ রাখে ঘরের চারপাশে।
রাশিকে দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। গায়ে পরেছে নতুন জামাটা। নতুন জামায় রাশিকে ফাটাফাটি লাগছে। দাদুর আনন্দে বুক ফেটে যায়।
হা হা হা! উঁচু গলায় হাসতে শুরু করে দাদু।
রাশি ভয়ে কাঁপতে শুরু করে। দাদু অবাক হয়ে যায় রাশিকে কাঁপতে দেখে।
দাদু ঘরের লম্বা টিউবের সুইচ অন করে। পুরো ঘর ধবধবে আলোয় ভরে যায়। দেখে রাশির দু’চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে।
দাদু চোখের জল মুছে দিয়ে বলে,
-জামা পছন্দ হয়নি দাদু?
-পছন্দ হয়েছে। কেঁদে কেঁদে রাশি জবাব দেয়।
-তা’হলে কাঁদছো কেন?
-ভয়ে।
-কিসের ভয়ে?
-তোমার হাসির ভয়ে।
– ওমা, সে কিরে! আমার দাদু হাসিকে ভয় পায়? ছি ছি ছি! কি লজ্জা!
রাশি বলে,
-দাদু জামাটা সুন্দর, আমার খুব পছন্দ হয়েছে। কাল সকালে পরবো। তুমি আমাকে সিআরবিতে নিয়ে যাবে না?
-হ্যাঁ হ্যাঁ, নিয়ে যাবোতো।
-মেলা দেখবো। ঘোড়ায় চড়বো। বাঁশি কিনবো।
-হ্যাঁ দাদু সব হবে।
সকাল হবার আগে অহনা অর্চি, নারিতা, নোরা আসে রাশির ঘরে। রাশির মা দেখেতো অবাক! অবিকল রাশির জামার রঙে, ফুলে ওদের জামাগুলো।
কী জানি! রাশি কী মনে করে!
রাশির ঘুম ভাঙে অহনা, অর্চির ডাকে। অহনা, অর্চি, নারিতা, নোরা এক সঙ্গে দাদুর ঘরে ঢুকে।
রাশি চোখ খোলে। ওদের গায়ের জামা
দেখেই কাঁদতে শুরু করে। কেঁদেকেঁদে ঐ একটি কথা বারবার বলে,- আমার জামাটা পঁচা, পুরনো। আমি পরবো না। সিআরবিতে যাবো না।
দাদু ভাবে,মা ভাবে,বাবা ভাবে।
কি করবে এখন!
দাদু মনে মনে বলে,আমিতো অহনাদের জামা দেখিনি। তবু কীভাবে একরকম হলো বুঝলাম না।
ঠাম্মা বলে,
-তাতে তোমার দোষ কোথায়? দোকানে একই জামা থাকতেই পারে।
-বলো, এখন আমি কি করতে পারি! দাদু বলে।
এদিকে বেলা বেড়ে যাচ্ছে।
নারিতা কী ভেবে রাশির কাছে যায়। পিছনে সবাই। নারিতা বলে,
-রাশি, তুমি শুধু শুধু দাদুর উপর রাগ করছো। দাদু কি জানতো, আমাদের এই জামা কিনেছে!
-তাছাড়া এটা আরো বেশির মজার না! নোরা বলে।
-কী রকম! রাশি জিগ্যেস করে।
-আমরা সবাই একি রঙের জামা পরলে সবাই ভাববে, আমরা সবাই একপরিবারের। ওতে ওরা খুশি হবে।
-তাইতো,নোরা কথাটা মন্দ বলিসনে।
ঠিক আছে, আমিও সেই জামা পরে মেলায় যাবো। একসাথে ঘুরবো, আনন্দ করবো।
সত্যি সত্যি রাগ দূরে সরিয়ে দাদুর আনা জামাটা পরে রাশি। পাশাপাশি সবাই দাঁড়ায়। ঠাম্মা বলে,
-কি সুন্দর দেখাচ্ছে, যেন এক স্কুলের ছাত্র সবাই।
– ঠিকইতো, দারুণ লাগছে সবাইকে। মা বলে।
-তোমরা সবাই এতো সুন্দর,আগে কখনও ভাবিনি। বাবা বলে।
সবার প্রশংসা শোনার পর দাদু বলে,
-বড্ডো দেরি হলো,চলো, এবার সবাই চলো মেলায়। মানুষের যা ভিড় ওখানে।
সবাই একই সুরে বলে, চলো, চলো মেলায় চলো।
কী আনন্দ সবার চোখেমুখে।
নতুন বছরের আনন্দতো! সত্যি ভীষণ মজার!