সিরিয়ায় ‘রাসায়নিক হামলা’

মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

্লজোরালো পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের হামলা চালালে পরিণতি হবে ভয়াবহ : রাশিয়া

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

সিরিয়ার দৌমা শহরে কথিত রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার জবাবে দ্রুত, জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃবর্গ ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার রাতের মধ্যে ‘বা এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই’ প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি। সিরিয়ায় ‘সামরিকভাবে বেছে নেবার মতো অনেক বিকল্প’ যুক্তরাষ্ট্রের আছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী কোনো হামলা চালালে তা ‘গুরুতর বিপর্যয়’ সৃষ্টি করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে তারা। ফলে সিরিয়ায় দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলাট্রিবিউনের।
‘সবাই যেরকম নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করলাম তা হতে দিতে পারি না আমরা। আমাদের বিশ্বে এটি হতে দিতে পারি না আমরা, বিশেষভাবে যখন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কারণে আমাদের সক্ষমতা আছে, আমাদের দেশের শক্তির কারণে আমরা এগুলো বন্ধ করতে সক্ষম,’ সোমবার বৈঠকে ট্রাম্প এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সিরিয়ায় নিয়োজিত প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ত্রাণ সংস’াগুলো ও দৌমার বিদ্রোহীগোষ্ঠী জইশ আল ইসলাম শনিবার রাতে দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। এতে অন্তত ৬০ জন নিহত ও হাজার জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পক্ষগুলোর। দৌমায় কোনো ধরনের ‘রাসায়নিক’ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে সিরিয়া সরকার ও রাশিয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক পর্যালোচনা এ পর্যন্ত সন্দেহাতীতভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি হামলায় কী ধরনের ‘রাসায়নিক’ ব্যবহার করা হয়েছে, আর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের বাহিনীগুলোই যে এর পেছনে আছে তাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি। ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলার জন্য কে দায়ী তা ওয়াশিংটনের কাছে ‘আরও পরিষ্কার হচ্ছে’। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বহুজাতিক সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি যাচাই করে দেখছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের পদক্ষেপ সমন্বিত করার জন্য ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে দৌমার হামলার জন্য যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর কোনো দায় বর্তায় সে ক্ষেত্রে কী হবে, এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘তিনি হতে পারেন, এবং যদি তিনি করে থাকেন, তাহলে এটি খুব কঠিন হতে যাচ্ছে, খুব কঠিন।’
অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিটেশন অব কেমিক্যাল উইপন (ওপিসিডব্লিউ) এর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস’াগুলো সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী পূর্ব ঘৌটা অঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা বের করা চেষ্টা করছে।
এদিকে সিরিয়া ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকেও মুখোমুখি অবস’ান নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও ছয়টি দেশ এই জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ না নিলেও ওয়াশিংটন এই হামলার জবাব দিতে প্রস’ত রয়েছে’। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময়ে উপনীত হয়েছি যখন বিশ্বকে অবশ্যই নায়বিচার দেখাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে কারণ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে নিজেদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে’।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকির মধ্যে রাশিয়া বলেছে, রাসায়নিক হামলার কথিত অজুহাতে সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘হামলা করার জন্য সিরিয়ার হাতে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি যে, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মিথ্যা অভিযোগে সেখানে সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’
রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত মঙ্গলবারের মধ্যেই সিরিয়ায় তদন্তকারী পাঠানোর দাবি জানান নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী, তেজস্ক্রিয়, জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক ইউনিটগুলো কথিত রাসায়নিক হামলার ঘটনাস’লে রয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাসায়নিক হামলার মতো কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। সেখানে কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে হাসাপতালে পাওয়া যায়নি। দৌমার চিকিৎসকরাও এমন কোনও তথ্য দেননি। সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্টও এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেনি। এ অবস’ায় আমরা আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ প্রতিষ্ঠান ওপিসিডাব্লিউ-কে সিরিয়ার ঘটনা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করছি।’
এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার বেশকিছু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিবিসি দৌমা শহরে ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস’া হোয়াইট হেলমেট। বেশ কয়েকটি চিকিৎসক, পর্যবেক্ষক ও একটিভিস্ট গ্রুপ ওই বিষাক্ত রাসায়নিক হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। পরে রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫তে দাঁড়িয়েছে।