মন্টুর পাঠশালা

আলমগীর শিপন
26-march-bg20150326085711

০‘নবগ্রাম’। নামটা দেখে ফারজানা শিলার ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। নামটি খুব অল্প সময়ের কিছু স্মৃতি জীবনের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। সময়ের ছকে বাঁধা জীবন থেকে এক এক করে বয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। ফেরা হয়নি আর কখনো সেই স্মৃতিময় গ্রামটিতে, তবে ভুলতেও পারেনি মুহূর্তের জন্য। আমরণ ভুলবারও নয়।
একটু আগে পি এস মঞ্জুর এসে মাসের প্রোগ্রাম সিডিউল দিয়ে যায়। তালিকায় প্রথমভাগে ‘নবগ্রাম হাই স্কুলের’ নাম দেখে কলজেটা ধুক করে ওঠে। নতুন ভবন উদ্বোধন। প্রধান অতিথি হয়ে যেতে হবে। এটা আর এমন কী, শিক্ষান্ত্রণালয়ে জয়েন করার পর থেকে তো অনেক দায়িত্ব! আজ এখানে তো কাল ওখানে। কোথাও ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন, কোথাও ভবন উদ্বোধন কিংবা নতুন নামকরণ, এসবে তেমন আর ভাবায় না। কিন’ রেখে যাওয়া সিডিউলে চোখ পড়তেই কিছু সময়ের জন্য ফিরে যাই সেই ফেলে আসা স্মৃতিময় দিনগুলোতে।
১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধে সময়কার কথা। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হই মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাম্পাস, অনুষদ, শিক্ষক, ক্যান্টিন এইসব চিনে ওঠার আগেই বন্ধও হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধ ঘোষণার পূর্বে ছাত্রমৈত্রী পরিষদ স্বাধিকার আদায়ের জন্য নেতৃত্বের জায়গা থেকে কর্মসূচি দিয়ে যে যার মতো যুদ্ধের প্রস’তি নেয়। দলমত নির্বিশেষে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী ছাত্র,শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক আপামর জনগণ জয়বাংলার দাবিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মুখে মুখে স্লোগান ওঠে- ‘বীরবাঙালি অস্্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।’
বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরে।
সরাসরি যুদ্ধে সহাবস’ান নিতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই ছিল স্বাধীনচেতা মুক্তিকামী। টিএন্ডটি’র স্টোরকিপার পদে করাচিতে অফিস করেন। আমরা দুই বোন। মিলা পড়ে প্রথম বর্ষে। দ’ুবোনকে নিয়ে মায়ের চিন্তার কমতি নেই। থাকতাম সরকারি কোয়ার্টারে। দুই কামরার ছোট্ট পাকাঘর। একটিতে মা মিলে আমরা দ’ুবোন, আরেকটাতে শফিক মামা থাকতেন। শফিক মামা সদ্য পাশ করা।
ছাত্ররাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। একদিন বিকেলে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে মা’কে বললেন, ‘বুবু অবস’া ভালো বুঝা যাচ্ছে না, একটু আগে গোপনসূত্রে খবর পেলাম- ইয়াহিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছে, ক্ষমতা দেবে না। যে কোন সময় ঢাকা এ্যাটাক করতে পারে। ছাত্রদের উপর কড়া নজর। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা হয়েছে। এক কাজ করো, আগামীকাল সকালে তুমি শিলাকে নিয়ে নবগ্রাম চলে যাও, আনিস ভাইয়ের সাথে দুলাভাইয়ের যোগাযোগ আছে। প্রয়োজনে আমিও যোগাযোগ করবো। আমি মিলাকে নিয়ে মা’র কাছে নারায়ণগঞ্জ সপ্তাহখানেক থাকবো। দুলাভাই আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে অবস’া বুঝে আমরাও চলে যাবো। বুঝতেই তো পারছো, এক জায়গা দু’জনকে রাখা ঠিক হবে না। যা যা নেবে এখন থেকে গোছগাছ করে নাও’- বলে শফিক মামা আর দাঁড়ালেন না। হুটহাট করে বেরিয়ে গেলেন। মা কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারেনি। মামা চলে গেলেন। মামার কথায় যা বুঝার আমি বুঝে নিয়েছি। আমারা দুবোন এক সাথে এক জায়গায় থাকলে কী অসুবিধা। ঠিক পরদিন আমি মা মিলে চলে আসি ‘নবগ্রাম’। আনিস মামাদের বাড়ি।
আনিস মামা মা’র চাচাতো বোনজামাই। সদ্য পাস করা ডাক্তার। টগবগে যুবক। দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম। আমায় দেখে বলল, ‘কোন চিন্তা করো না শিলা, একদম ঠিক জায়গায় এসে পড়েছিস।’
আনিস মামা এমন আপন করে কথা বলছেন যেন আমি তার কোলেপিঠে চড়ে মানুষ হওয়া ভাগ্নি শিলা। অনেকটাই শফিক মামার মতো। বলার আরেকটা কারণও আছে-আনিস মামার বউ- রুমা খালার বিয়েটা বাবাই দিয়েছেন। সময়টা ছিল এমনই সম্পর্কে কে কতো কাছের কী দূরের, তা ভাববার অবকাশ নেই।
‘নবগ্রাম’ গ্রামটি দেখতে বেশ সুন্দর। সদর রাস্তার কাছাকাছি বলেই যাওয়া-আসার পথটাও সহজ। আনিস মামার বাড়িটি গ্রামের দক্ষিণ কোণায়। একটু ভেতরে। নতুন চারচালা দুটি টিনের ঘর। একটি সামনে, অন্যটি পেছনে। আমি আর মা’কে পেছনের ঘরে থাকতে দিয়েছে। আমাদের সাথে আছে রশিদা। রশিদা মামাদের ঘরে ফুটফরমাশ খাটে। রশিদাকে দেখে তা বুঝা যায় না। সুন্দর করে কথা বলে। চালচলন শালিন। সচরাচর গ্রামের মেয়েরা এভাবে কথা বলে না। পরে শুনেছি এটা হয়েছে আনিসমামা, রুমাখালার কারণে। বিশেষ কওে আমায় সঙ্গ দিতে মামাই বলেছে ওকে এ ঘরে থাকতে।
ঘরের সামনে বড়সড় পুকুর কেটেছে। দাওয়ায় বসে পুকুরের টলটলে পানি দেখে মনটাও স্বচ্ছ পানির মতো হয়ে যায়। এরিমধ্যে ক’টা দিন পার হলো, আনিস মামার সাথে আমার বেশি কথা হয়নি। পরিচয় পর্বে যা হয়, সেরকমই। কি পড়ো, কিসে পড়ো? কোথায় পড়ো? কি হতে ইচ্ছা করে? এই সব। মামার সাথে মা’রই কথা হোত। কী নিয়ে কথা হোত-সেদিকে আমার ভ্রুক্ষেপ নেই। এতোসুন্দর সবুজঘেরা পরিপাটি গ্রামের পরিবেশে আমার বেশ ভালোই লাগে। পুকুড় পাড়ে বাবলা গাছে ঘুঘু ডাকে। শিমুল গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। হলদে ময়না শিমুলের বোঁটায় ঠোঁট ঢুকিয়ে জমে থাকা শিশিরফোঁটায় তৃষ্ণা মেটায়। এই মুহূর্তে মিলাকে বেশ মনে পড়ে যায় আমার। ও কী আমার মত একা? নাকি তরুণীমাকে নিয়ে দুজনে বেশ মজা করছে। মনে পড়ে-একবার নানাদের পুকুরে সাঁতার শেখাতে বাবা আমাদের দুজনকে নিয়ে গিয়েছিল। হাত ফসকে ছুটে গিয়ে পানিতে ডুবে পানি খেয়ে আধপেটা হয় মিলা। আহ্! কী যে কান্না! বাবা সাহস দেয়। এরকম না হলে সাঁতার শেখা যায় না। তিন চার দিনের ভেতর আমরা সাঁতার শিখে নিই। রুমাখালা এসে কখন যে আমার পাশে বসেছে, একবারে টেরই পাইনি। বলল, ‘কী রে, মন খারাপ?’
‘না খালামণি, মন খারাপ হবে কেন, কী যে সুন্দর পরিবেশ!’
‘শোন, ‘তোর মামার সাথে কথা হয়েছে-মিলাকেও নিয়ে আসবে। দেখবি আরো ভালো লাগবে।’
তুমি কী যাদু জানো? আমি যে মিলার কথাই ভাবছিলাম।’
খালামণির সাথে কথায় কথায় তখনই জানলাম-আনিস মামা জেলামুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। নামমাত্র ডাক্তারী করলেও প্রধান কাজ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা। পরিকল্পনা মত যুদ্ধ পরিচালনা করা। যোদ্ধাদের সেবা করা। দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করতে দেখে গর্বে বুক ভরে গেল আমার।
(২)
প্রায় রোজ সকালে একটি ছেলে আসতো আনিস মামার কাছে। বয়স আনুমানিক তেরো কি চৌদ্দ বছর হবে। পরিমিত স্বাস’্য, কী মায়াবী ফুটফুটে মিষ্টি চেহারা। প্রথম দিন আমায় দেখে দূর থেকে মিষ্টি হাসি দিয়ে ফিরে গেল। আমারও মায়া জন্মায় ছেলেটার প্রতি। একদিন আমি পুকুরঘাটে বসে দাঁত মাজছিলাম। তাকিয়ে দেখি, ও কিছু একটা হাতে নিয়ে আনিস মামার ঘরে গেল আবার নিমিষে বের হয়ে এল। আমি ওর চলে যাওয়া দেখলাম। মামাদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে খালের ওপাড়ে ওদের বাড়ি। চারপাশের গাছগাছালির চাপে সে বাড়ির অস্তিত্ব বোঝা কঠিন। ফাঁকফোকরে চোখ রেখে দেখলাম-মিষ্টিছেলেটি টুক করে ঘরে ঢুকে গেল।
পুকুরপাড়ে বকুলগাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আমি রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে একবার পুকুরপাড়ে ফুল কুড়াতে যাই। ছেলেটি ওপাড়ে দাঁড়িয়ে দূর থেকে আড়চোখে আমায় দেখে, আর মিটিমিটি হাসে। আমি ওর ভালোবাসার লুকোচুরি একদম বুঝে ফেলি। সেদিনকার ঘটনা ছিল ব্যতিক্রম। আমি ঘুম থেকে ওঠার আগে আগে মিষ্টিছেলেটি এসে বকুল গাছের নিচে ফুল কুড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমি যেতেই গুটিসুটি পায়ে এগিয়ে আসে আমার দিকে। চোখে চোখ রেখে টুকটাক কথা বলা, আর দু’জনের হাসি বিনিময়-এভাবে বন্ধুত্ব। মন্টু’র মুখ থেকে জানলাম-সে ‘নবগ্রাম’ স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। ভালো ছাত্রও। সেদিনের পর থেকে মন্টু আমাকে শিলাদি বলে ডাকে।
মন্টুর কোন ভাইবোন নেই। ও একা। ওর দিদি ডাক আমার বেশ ভালো লাগে। দিন যেতে যেতে সত্যি সত্যি আমি ওর দিদি হয়ে যাই। আমারও যে কোন ভাই নেই। ভাইয়ের ভালোবাসা, স্নেহ, সেটুকুু পূরণ হোল মন্টুকে দিয়ে। সেই থেকে রোজ রোজ মন্টু আমার জন্য বকুল ফুল নিয়ে আসে।
একদিন প্রথমাহ্নে ডাকপিয়নকে নিয়ে মন্টু ঘরের দরজায় হাজির। মা’র নামে টেলিগ্রাম এসেছে। মন্টু বলল, ‘শিলাদি, ইনি পাশের গ্রামের হামিদ চাচা।’
মধ্যবয়েসি ডাকপিয়নের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মন্টু বলল, ‘হামিদ চাচা মাসে দু’মাসে একবার করে আমাদের বাড়ি আসে-বাবার পাঠানো মা’র চিঠি নিয়ে। সেই থেকে চেনাজানা।
আমি বললাম, ‘দিন চাচা- টেলিগ্রামটা দিয়ে দিন।’
করাচি থেকে বাবা টেলিগ্রাম পাঠিয়েছে আমাদের কুশলাদি জানাতে। মন্টুর সুবাদে হামিদ চাচা টেলিগ্রাম আমার হাতেই দিল। টেফিগ্রামটি হাতে নিয়ে হামিদ চাচাকে বিদেয় করলাম। মন্টু জানতে চায়-শিলাদি, টেলিগ্রামে কী লিখেছে?’ আমি শব্দ করে পড়ে শোনাই মন্টুকে। বাবা জানিয়েছেন-‘মিলা, শফিক মামা নারায়ণগঞ্জ থেকে নানিকে নিয়ে মধুপুরে নানার বাড়িতে চলে গেছে। সেখানেও পরিসি’তি ভালো না। নানাদের সবচে বড় বাজার ‘বটগ্রাম’, সেটিকে পাঞ্জাবীরা পুড়ে ছারখার করে দিয়েছে। গ্রামে গ্রামে ঢুকে যুবকদের বেধড়র গুলি করছে। যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনাক্যাম্পে। ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে। আমরা যাতে সাবধানে থাকি। মা যেন আনিস মামাকে সাবধান করে দেয়।’
শুনে মন্টু আমার থেকেও বেশি চিন্তিত হয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি রে মন্টু, কী ভাবছিস?’
জলদি উত্তর, ‘কিছু না শিলাদি।’
আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আবারো সব ভুলে যাই। কী মায়াবী ফুটফুটে মিষ্টি চেহারা- অল্পসময়ে বিবর্ণ হয়ে গেল। কিছু না বলে মলিনমুখে এক পা, দু’ পা করে ফিরেও গেল।
ক’দিন পর রোজার ঈদ। সকাল হতে না হতে বকুল ফুলের মালা হাতে মন্টু হাজির। গ্রামের ঈদ ঢাকার ঈদের মতো না। হরেক রকম মিষ্টি, পায়েস, সেমাই, লুচি, মাংস, বিরিয়ানি এসবের বালাই নেই। মন্টু আমাকে জোর করে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। না করনি। আমারও সায় ছিল ঈদের দিন বলে। মন্টুর আম্মা মিতাখালা চালেরগুঁড়া দিয়ে রাতভর হাতে বানানো সেমাইপিঠা নারকেলদুধ, গুড় দিয়ে রান্না করে রেখেছে। আমায় পেয়ে তাদের ঈদানন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়।
মিতাখালা, মন্টু দ’ুজনে আমার দু’পাশে বসে আছে-খাওয়া শেষ অবধি। মনে হয় কত কালের চেনা। একটু পর আমার কানের কাছে এসে মন্টু বললো, ‘শিলাদি, লিডারের সাথে দেখা করে আসি। আমি না গেলে লিডার বসে থাকবে। তুমি বসো।’
আমি বললাম, ‘ঈদের দিনেও!’ মন্টু মুচকি হেসে চলে গেলো। আবার নিমিষে ফিরেও এলো। ততক্ষণে আমি মিতাখালার সাথে কথা বলে মন্টুদের পারিবারিক অনেক কথা জানলাম। কথার ফাঁকে জানলাম-মন্টু কেন প্রতিদিন আনিস মামার কাছে আসে। আজ ঈদের দিনেও দায়িত্বে অবহেলা করেনি। গর্বে আবারো বুকটা ভরে গেল আমার। মন্টুকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘লক্ষ্মীভাই আমার, আজ ঈদের দিন। দিদির সাথে মিষ্টিমুখ করবি না?’
আমার কথা শুনে-ফুটফুটে মিষ্টি চেহারা আরো মিষ্টি হয়ে গেলো মন্টুর। স্নেহের হাতে ওকে পেটভরে মিষ্টি সেমাই খাওয়ালাম। ব্যাগ খুলে মন্টুর হাতে ক’টা পিতলের কয়েন দিয়ে বললাম, ‘নে, ঈদ সালামী।’ সালামীর সাথে মন্টু আগে থেকে পরিচিত ছিল কী না, জানিনে আমি। তবুও হাত বাড়িয়ে দিলাম।
‘ঝটপট বলল, ‘শিলাদি, আমি তো তোমাকে এখনও সালাম করিনি!’
‘সালাম না করলে করবি। নে। প্রতিদিন একটি করে বকুল ফুলের মালা বানিয়ে দিদিকে দিবি, আর চার আনার একটি করে সিকি পাবি। পারবি না?’
মুখ দেখে বুঝলাম-মন্টু খুশি হয়নি। ভারীমুখে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করলো। আমি আলতো করে থুতনিতে হাত রেখে বললাম, ‘কী হলো মন্টু, মুখ ভার করে আছিস কেন?’
‘বাহ্ রে, তুমি কেবল সিকিটাই দেখলে, আমার মনটা দেখলে না? আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি!’
‘বুঝেছি। আজ ঈদের দিন। জানি ঈদের দিনে কারো মনে আঘাত দিতে নেই। আমি তোকে আঘাত দিয়েছি, স্যরি মন্টু, তুই দিদিকে ক্ষমা করে দে।’
মন্টু ঝট করে আমার হাত ধরে বলল, ‘ধ্যাৎ, শিলাদি! তুমি কখনো আঘাত দিতে পারো না। তুমি তো-
আমি অনেকটাই ধমকের সুরে বললাম, ‘সিকি নয়, রোজ একটা করে আধুলি পাবি। ঈদের নামাজে যাবি না? যা, রেডি হয়ে নে।’
‘কী যে খুশি হল মন্টু! আর দাঁড়াল না, পুকুরপাড়ের চেনারাস্তা দিয়ে একদৌড়ে চলে গেল বাড়ির দিকে। (চলবে)