স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি

বান্দরবান জেলা পরিষদ জেলা প্রশাসন দ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন নিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগে পার্বত্য জেলা পরিষদ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে তাদের নেয়া সকল কর্মসূচি স’গিত করেছে।
জানা গেছে, প্রতিবারের মত এবারো স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রস’তি সভাও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয় প্রস’তি সভায়। কিন’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে প্রশাসনের সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। জেলা পরিষদ ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধীনতা দিবসের তাদের সকল কর্মসূচি স’গিত করে দেয়। বিভিন্ন উপ-কমিটির আহ্বায়কদেরও অনুষ্ঠান স’গিত করার কথা জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন। তবে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ
দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমন্ত্রণপত্রও বিতরণ করা হয়েছে।
একি অনুষ্ঠান নিয়ে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীন কর্মসূচিতে বিপাকে পড়েছেন সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে সালাম কে গ্রহণ করবেন। পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাকি জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। যদিও ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদের আইনে জতীয় দিবসের অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো জেলা পরিষদের উদ্যোগে পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে অবহিতও করেছেন। কিন’ এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। যে কারণে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হচ্ছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, ‘পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগেই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানমালাগুলো পার্বত্য চুক্তির পর থেকেই পালন হয়ে আসছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া রয়েছে। তাছাড়া জেলা পরিষদগুলো গঠনের পর থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলো শেষ করা হয়। কিন’ সম্প্রতি জেলা পরিষদকে এড়িয়ে প্রশাসন সমন্বয়হীভাবে অনুষ্ঠানগুলো পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে জন গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেকার সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। যার ফলে বাধ্য হয়েই এবারের স্বাধীনতা দিবসে পার্বত্য জেলা পরিষদের নেয়া কর্মসূচিগুলো স’গিত করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘জেলার শান্তি ও উন্নয়নে সমন্বয় করেই কাজ করছি। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসন সকল উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তাছাড়া জেলা পরিষদকে সাথে নিয়েই অনুষ্ঠানগুলো করা হবে। জেলা পরিষদকে সাথে নিয়ে করা, আর জেলা পরিষদ নিয়ে করা একই কথা। এখানে মতপার্থক্যের কোন অবকাশ নেই।’