সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বন্দরের স্ক্যানার অপারেটররা চাকরিচ্যুতি হতে বাঁচতে চান

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আওতাধীন চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে চারটি কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিন এবং ১০টি রেডিয়েশন ডিটেকশন ইকুইপমেন্ট মেশিন চালু রয়েছে যেখানে ৬০-৭০ জন অপারেটর ও কর্মী দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কর্মরত আছেন। তাঁদের নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান এসজিএসের সঙ্গে স্ক্যানার ও রেডিয়েশন শনাক্তের মেশিন পরিচালনায় কাস্টমসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল। কাস্টম কর্তৃপক্ষ নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী অপারেটর কোম্পানি নিয়োগ করতে যাচ্ছে যেখানে বর্তমানে কর্মরত অভিজ্ঞ জনবলকে নিয়োগের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এমতাবস’ায় বন্দরের অভিজ্ঞ ও পুরনো স্ক্যানার অপারেটররা চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা চাকরিচ্যুতির হাত থেকে বাঁচতে এবং চাকরি নিয়মিত করণের দাবিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টম স্ক্যানিং এর অপারেটর ও কর্মীরা এ আবেদন জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিস্টেম অপারেটর মো. জামাল উদ্দিন ভুঁইয়া।
লিখিত বক্তব্যে মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কাস্টমস একটি পক্ষপাতমূলক টেন্ডারের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে নাম সর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনপ্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যেখানে প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা এ অভিযোগ উল্লেখপূর্বক ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেছি যা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যে বিষয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করার পর আমাদের বাদ দিয়ে নতুন অনভিজ্ঞ লোকবল দিয়ে স্ক্যানিং মেশিনের মতো স্পর্শকাতর মেশিনগুলো পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অবস’াদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের চাকরিচ্যুত করার দুরভিসন্ধি কাজ করছে একটি মহলের।
জামাল উদ্দিন ভুঁইয়া আরও বলেন, সিএইচএস-এসজিএস প্রজেক্টের চুক্তির আলোকে কর্মরত জনবলের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ বিদ্যমান দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীকরণের মাধ্যমে স্ক্যানারের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব। এতে দেশ ও জাতির নিরাপত্তায়, অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যকলাপ প্রতিহতকরণে, ঘোষণাবহির্ভূত মাদক দ্রব্য, বিস্ফোরক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সততা দিয়ে স্ক্যানার কার্যক্রমকে আরও বেশি ফলপ্রসূ করতে সক্ষম হবো। চলমান স্ক্যানার অপারেশন এক দিনের জন্যও বিঘ্নিত না করে ঝামেলাহীনভাবে এসজিএস থেকে কাস্টমসে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাস্টমসের তত্ত্বাবধানে স্ক্যানার চালু থাকলে প্রকল্পের খরচ বাবদ দেশের প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইট সুপেরিয়র সোহেল রানা সুপ্রভাতকে বলেন, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরনো ও অভিজ্ঞ সবাইকে নিয়োগ দিয়ে চাকরি নিয়মিত না করলে আমরা একযোগে সবাই পদত্যাগ করব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপসি’ত ছিলেন স্ক্যানার সাইট অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান মিল্টন, সাইট সুপেরিয়র কাদের সোবহান ও সালাউদ্দিন আহমদ, অ্যাসিস্টেন্ট সাইট সুপেরিয়র আবু হাসেম, সিস্টেম অপারেটর সুবির মিত্র, আনোয়ার হোসেন, নুর মোহাম্মদ ও অলীক দেওয়ান।