পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বোয়ালখালীতে প্রবাসীর ঘর ভাঙচুর, লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোয়ালখালী

বোয়ালখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর নির্মাণাধীন পাকাঘর ও কাজের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। লুট করে নিয়ে গেছে নির্মাণ কাজের রড-সিমেন্ট। গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা আজম তালুকদার বাড়িতে এ তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা।
জানা গেছে, পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের আজম তালুকদার বাড়ির মৃত আহমদ মিয়ার প্রবাসী তিন ছেলে সিরাজ মিয়া, সিরাজুল হক
ও শাহজান পৈতৃক মাটির ঘর ভেঙে পাকাঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন মাসখানিক আগে। এসময় একই এলাকার মৃত আবদুল রশিদের ছেলে আবদু ছত্তার ১১ লক্ষ টাকা চাঁদা চান তাদের কাছে। এতে রাজি না হওয়ায় আবদু ছত্তার ঘর নির্মাণ করতে দেবে না বলে হুমকি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘর নির্মাণের জায়গায় সম্পত্তি দাবি করে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করতে থাকে এ প্রবাসী পরিবারকে। এ নিয়ে একাধিকবার থানায় ও স’ানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকও হয়।
ছত্তরের ছত্রছায়ায় একটি মহল উঠেপড়ে লাগে প্রবাসী পরিবারটির বিরুদ্ধে। মারামারিসহ বিভিন্ন ঘটনায় থানায় ও আদালতে হয় একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা।
গত বুধবার রাত ১১টার দিকে বোয়ালখালী থানার পুলিশ ওই প্রবাসী পরিবারের তিন সদস্যকে বাড়ি থেকে ১৯ মার্চ বোয়ালখালী থানায় রুজুকৃত এক মামলায় গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। রাত আড়াটার দিকে পুরুষশূন্য ওই পরিবারের ওপর চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। পার্শ্ববর্তী বাড়িসহ ৮টি পরিবারের দরজা আটকে দিয়ে ওই প্রবাসী পরিবারের নির্মাণাধীন পাকাঘর ভাঙচুর করে নিয়ে যায় নির্মাণাধীন ঘরের লোহার রড-সিমেন্ট। এছাড়া ভেঙে চুরমার করে দেয় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি। খবর পেয়ে থানা পুলিশের এএসআই মাহবুব আটকে পড়া পরিবারগুলোকে মুক্ত করেন।
এএসআই মাহবুব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৮টি পরিবারের কেউ যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সে জন্য বাহির থেকে হুক-ছিটকিনি লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা এ তাণ্ডব চালিয়েছে। স’ানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আজগর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক।
স’ানীয়রা জানান, এ ঘটনা সিনেমাকে হার মানিয়েছে। ১৯ মার্চ বোয়ালখালী থানায় গোপনে মামলা রুজু করে ২১মার্চ বুধবার রাতে ওই পরিবারের তিনজনকে গ্রেফতার করে প্রথমে পুরুষশূন্য করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এলাকার সব ঘরে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রবাসী সিরাজ মিয়ার স্ত্রী নাছিমা আক্তার বলেন, কোনো ঘটনা ছাড়াই পুলিশ আমার তিন ভাই সাদ্দাম, জাবেদ ও আনোয়ারকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। শুনেছি তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এরপর সন্ত্রাসীরা এঘটনা ঘটিয়েছে। এ সময় থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে অনুরোধ করেছিলাম, পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় সবাইকে নিয়ে গেলে কি করে এদের ছাড়াবো। তিনি কথা শুনেননি। বলেছে কোনো সমস্যা হলে তিনি (এসআই দেলোয়ার) দায়িত্ব নেবেন। পরে জানতে পেরেছি, প্রতিপক্ষের আবদুল জব্বারের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি গত ১৯ মার্চ এ মামলা দায়ের করেছেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমাংশু কুমার দাস বলেন, ভোর ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছে। সংঘটিত ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস’তি চলছে।