চসিকের ৩৪৯৩ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে

সাধারণ সভায় এক মাসের মধ্যে প্রধান সড়কের ডাস্টবিন তুলে ফেলার নির্দেশ মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাস্তাঘাট মেরামত, আলোকায়ন, যোগাযোগ ব্যবস’ার উন্নয়ন, বাস-ট্রাক টার্মিনাল স’াপন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়সহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রায় ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকার পাঁচটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা, উন্মুক্ত স’ান আধুনিকায়নে ৪০০ কোটি টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনাল ও অন্যান্য বিষয়ে ১১০০ কোটি টাকা, সেবকদের ১৪ তলা বিশিষ্ট ১৩ শত ৯ টি পরিবারের জন্য বাসস’ান নির্মাণে ২৩৩ কোটি টাকা, এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরা স’াপন প্রকল্পে ৫৬০ কোটি টাকার বরাদ্দ সরকারের নিকট চাওয়া হয়েছে।
গতকাল দুপরে নগর ভবনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে চসিকের ৫ম পরিষদের ৩২ তম সাধারণ সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
সভায় প্রতি ওয়ার্ড এলাকার প্রধান সড়ক সংলগ্ন ডাস্টবিন তুলে ফেলার জন্য জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগকে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সড়ক থেকে অপসারণ করে ডাস্টবিন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের নির্ধারণকৃত জায়গায় স’ানান্তর করা হবে। এজন্য তিনি ৪১ ওয়ার্ডের সকল কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আপনারা ওয়ার্ড এলাকায় তুলনামূলক কম জনচলাচল স’ান ডাস্টবিন স’াপনের জন্য নির্বাচন করুন। এলাকার প্রধান সড়কস’লের বিদ্যমান ডাস্টবিনগুলোকে আমরা সেখানে স’ানান্তর করব।’
দ্রুত সময়ের মধ্যে কাউন্সিলরদেরকে স’ান নির্বাচন করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র। ‘যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাস্টবিনের জন্য স’ান নির্বাচন করে তালিকা দিবেন না; তাদের ব্যাপারে গণমাধ্যমে অনুযোগ তুলে ধরা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন তখন, যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার লাগানো যাবে না। প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরবৃন্দ ব্যানার, পোস্টার, চিকা মারা বা সকল ধরণের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য স’ান নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত স’ানসমূহে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রেণি পেশাজীবীরা তাদের প্রচার-প্রচারণামূলক পোস্টার ব্যানার লাগাতে পারবেন।’
সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে
সপ্তাহব্যাপী নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে উন্নয়ন উৎসব, আলোকায়ন কর্মসূচিসহ শোভা বর্ধনে কাজ করবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডের শোভা বর্ধনে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব গ্রহণের পরামর্শ দেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সভায় মেয়র জানান, চট্টগ্রাম নগরীকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর লক্ষে প্রধান প্রধান সড়কসহ নগরীর প্রত্যেক সড়কের পাশে দেয়াল ও ভবনে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ করার জন্য রাজনৈতিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার সভায় নির্বাচিত পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অফিসিয়াল কাউন্সিলর, সিটি করপোরেশনের বিভাগীয় প্রধানগণ উপসি’ত ছিলেন।