মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইন

বাতিলে আল্টিমেটাম চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করে। এই আইনের ফলে এই মহাসড়কে ৬ চাকার ট্রাকে ১৩ মেট্রিক টন এর বেশি মালামাল বহন করা যাবে না। এর কারণ হিসেবে সওজের ব্যাখ্যা ছিল অতিরিক্ত ওজনের কারণে কালভার্ট ও সড়ককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা। মালামাল পরিবহনের এই বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় ক্ষোভে ফুঁসছেন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা এই আইন রহিত করতে চালাচ্ছেন নানা তৎপরতা- বিলি করছেন প্রতিবাদী লিফলেট, করছেন দেওয়াল পোস্টারিং। অতিসত্ত্বর এ আইন বাতিল না করলে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানানোর মতো কর্মসূচি গ্রহণের কথাও ভাবছেন।
‘চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে সম্প্রতি বিলি করা একটা লিফলেটে মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইনটি চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখার অশুভ তৎপরতা উল্লেখ করে বলা হয়, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ অনাদিকাল থেকে ব্যবসায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ভৌগোলিক অবস’ানের কারণে এই বন্দরনগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এশিয়ার মধ্যে সপ্তম এবং বিশ্বের মধ্যে দশম স’ানের অধিকারী। দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। অর্থনীতিবিদরা এই বন্দরকে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড বলে অভিহিত করে থাকেন। এই বন্দর দিয়ে দেশের ৯২ শতাংশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। এত কিছুর পরও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা নানাভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। ক্ষমতাসীনদের একটা অংশ বরাবরই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। সর্বশেষ সওজ কর্তৃক পরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপ চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখার আরেকটা অশুভ তৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ।
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হয় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলাইমান বাদশাহর সাথে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে মোটরযানের এক্সেল রোড নিয়ন্ত্রণ আইন সমগ্র দেশের সড়কের জন্য একই নিয়ম না করে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য এই আইন হওয়ায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের অন্যস’ানে ৬ চাকার ট্রাকে করে যেখানে ১৬ থেকে ১৮ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহনে বাধা নেই সেখানে শুধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা পারছে সর্বোচ্চ ১৩ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন। এতে একদিকে যেমন এখানকার ব্যবসায়ীদের বাড়তি পরিবহন খরচ গুণতে হচ্ছে অন্যদিকে দূর-দূরান্তের বড় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ দিনদিন ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে।
চাক্তাই-খাতুনঞ্জের ব্যবসায়িক নেতাদের সূত্রে জানা যায়, তারা এই আইন বাতিল চেয়ে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং চেম্বার সভাপতির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তারা এর আশু সমাধানে ব্যবসায়িক নেতাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি একমত পোষণ করেছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মাহবুবুল আলমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সওজের এ বৈষম্যমুলক প্রজ্ঞাপনের কারণে আমরা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা খুবই বিপাকে আছি। পরিবহন খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ, চাল-ডাল-তেল প্রভৃতি ভোগ্যপণ্যের কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা খরচ বেড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে চেম্বার সভাপতি বলেন, এ নিয়ে আমার মাথাব্যথার শেষ নেই। এই আইন বাতিল করতে প্রতিনিয়ত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট নানাজনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি যোগাযোগমন্ত্রী বরাবর চিঠিও দিয়েছি। এখনও মন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাইনি।