পটিয়ার বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন

৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন

সালাহ উদ্দিন সায়েম, পটিয়া থেকে ফিরে
Hasina01

‘আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই। আপনারা আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করবেন কিনা হাত তুলে ওয়াদা করেন।’
পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলার পর মাঠে সমবেত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দুই হাত উঁচু করে তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে জনসভায় বলেন, ‘আমরা যদি নৌকা মার্কায় ভোট পাই, আমরা যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসি তাহলে আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে। একমাত্র নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হবে।’
বিকেল ৩টা ৫মিনিটে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপসি’ত হন প্রধানমন্ত্রী। জনসভার মঞ্চে উঠার আগে তিনি সুইচ চেপে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সরকারি সেবা সংস’ার ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন ও উদ্বোধন করেন।
মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে হাত নেড়ে জনসভার মাঠে সমবেত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অভিবাদন জানান। বিশাল জনতা বিপুল উল্লাসে এর জবাব দেন।
বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতে তিনি জানান, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে ৪২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন ও উদ্বোধন করলাম। আপনাদের কাছে আমি এসব উপহার নিয়ে এসেছি। যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি তা শুধু পটিয়া নয়, গোটা চট্টগ্রামেরই উন্নয়ন।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। এ আওয়ামী লীগ আপনাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে। জাতির পিতাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে দেশের উন্নয়ন হয়।’
‘আমেরিকার ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি’ অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ আমি গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিই নাই। খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে দিলো ওই ভারতের কাছে। ভারতের কাছে সে গ্যাস বেঁচবে। আমি বলেছি, আমার গ্যাস আমি বেঁচবো না। এটা জনগণের সম্পদ, জনগণের কাজে লাগবে। আমেরিকা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলো, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে দেয় নাই। যেহেতু আমেরিকা কোম্পানি গ্যাস বেঁচবে, কিনবে ভারত।’
‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে কী হয়েছে এদেশে?’-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা চট্টগ্রামে দেখেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি। হত্যাকাণ্ড। আমার ছাত্রলীগের ৮ জন কর্মীকে একসাথে হত্যা করেছে। এরকম বহু মানুষ হত্যা হয়েছে। গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে হত্যা করেছে।’
‘জামাল উদ্দিন তাদেরই দলের লোক। অপহরণ করে নিয়ে গেল ওই বিএনপির লোক। ছয় মাস পর তার কঙ্কাল বের হলো। তারা আমাদেরকে হত্যা করেছে তা নয়, নিজেদের লোককেও হত্যা করেছে’, বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ দেশের উন্নতি চাই, মানুষের শান্তি চাই। উন্নতি করতে হলে শান্তি প্রয়োজন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বিধায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশ বলে কেউ অবহেলা করতে পারে না। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদেরকে আর কেউ খাটো করে দেখতে পারবে না। বিশ্বের কাছে আমরা মাথা উঁচু করে চলবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার একটাই লক্ষ্য একেবারে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বাংলার যে মানুষগুলো বসবাস করছে তারা যেন সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে।’
জনসভায় উপসি’ত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস’ত। যেভাবে আমার পিতা আপনাদের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন, প্রয়োজনে আমিও বুকের রক্ত দিয়ে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।’
সভায় ৩৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সিডিএ) আবদুচ ছালাম, সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং ওয়াসিকা আয়শা খান।
সভা পরিচালনা করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন।