দৃষ্টিপাত

ওমাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর খোলা চিঠি

দৃষ্টিপাত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২১ মার্চ বুধবার দক্ষিণ চট্টগ্রামে আসছেন। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পটিয়ায় আসাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া উপজেলাবাসীর মধ্যে আশা-প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কিছু সম্ভাবনায় খাত তুলে ধরতে চাই। দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাময় তিন অঞ্চলের নাম লোহাগাড়া-সাতকানিয়া- বাঁশখালী। প্রশাসনিক কাঠামোতে দু’সংসদীয় আসনের তিন উপজেলা। একই সমান্তরালে পরস্পর ঘা ঘেঁষে পশ্চিমে বাঁশখালী, মধ্যখানে সাতকানিয়া ও পূর্বে লোহাগাড়া। আয়তন, জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়ে কোনটি কোনটির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভৌগোলিক সীমারেখায় বাঁশখালীর পশ্চিমে অবসি’ত অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার সমৃদ্ধ, দিগন্তবিস্তৃত বঙ্গোপসাগর, পূর্বদিকে লেক পরিবেষ্টিত এবং সবুজের সমারোহে আবৃত পাহাড় ও বনাঞ্চল। অন্যদিকে সারি সারি পাহাড় আর অভ্যন্তরে ডলু-টংকার মতো ১৩টি সৃজিত খালে ঘেরা পীর আউলিয়ার পূণ্যভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপরূপ লীলাভূমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া। প্রকৃতি যেন এ তিন অঞ্চলকে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে সাজিয়েছে। এ তিন অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ স্তরে স্তরে শায়িত হলেও সরকারি উদ্যোগের অভাবে জনগণ তাদের প্রাপ্য সুফল থেকে বঞ্চিত। আর সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে।
বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিমের ২৫ কিলোমিটার সমুদ্র বালুচর ও পূর্বের ৮ কিলোমিটার সৃজিত পাহাড় প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শন। সম্ভাবনাময় এ সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ে অবসি’ত জলদি গ্যাস ফিল্ড অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। ১৮০০ হেক্টর বনভূমিতে বামের ছড়া ও ডানের ছড়া লেকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাঁশখালী ইকোপর্কের সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে বসেছে। ৪০০ মিটার দীর্ঘ দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার সমৃদ্ধ এ ইকোপার্ক এবং দীর্ঘ সমুদ্র বালুচরের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলে বাঁশখালী দেশের সেরা পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে। এ অঞ্চলের হাটখালী ও চানপুরে সমুদ্র বন্দর, পাহাড়ী এলাকায় আগর, রাবার ও পাম চাষ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স’াপন, উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুশক্তি, সমুদ্র সৈকত, বিমানবন্দর, সাঙ্গু নদীতে ১৯৬৬ সালের প্রস্তাাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাগর থেকে আরো তেল ও গ্যাস আহরণ কেন্দ্র, ইপিজেড স’াপনের ব্যবস’া নিশ্চিত করা যেতে পারে। বাঁশখালীকে সহজেই অর্থনৈতিক জোনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
অপরদিকে, সাতকানিয়া- লোহাগাড়া অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় খাত। এ দু’অঞ্চলের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ডলু ও টংকাসহ অন্যান্য সৃজিত খালে প্রতি বছর এক লাখ ঘনফুট বালি উৎপন্ন হয়। বালি এতই ঝকঝকে, পরিস্কার ও সিলিকাযুক্ত যা দিয়ে সহজেই এলাকায় একটি কাচ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। লোহাগাড়া উপজেলায় এশিয়ার হাতি প্রজননের অন্যতম অঞ্চল চুনতি অভয়ারণ্যটি প্রকৃতির আরেক অপরূপ লীলাভূমি। এখানেই সহজেই হতে পারে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র। ১৯৬০ সালে বাঁশখালী ও লোহাগাড়ার মাঝামাঝি ‘দো ছাইল্যা’ নামক পাহাড়ে ৫টি গ্যাসকুপ আবিস্কৃত হয়, যা এখনো অবহেলায় পড়ে আছে। এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবি রয়েছে বাঁশখালীর উপর দিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিকল্প চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক তৈরি, লোহাগাড়া উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ, লোহাগাড়া সদর এলাকায় একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ, লোহাগাড়া উপজেলা সদরস’ আলহাজ মোস্তফিজুর রহমান কলেজ ও লোহাগাড়া শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালিয়কে সরকারিকরণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, লোহাগাড়া- বাশঁখালী সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার খাল-ছড়াগুলো সংস্কারের ব্যবস’াকরণ, বাঁশখালী-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলায় গ্যাস সংযোগ স’াপন, বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা সদরের উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আনোয়ারা, পটিয়া ও চন্দনাইশ এলাকার সম্বাবনাময় খাতগুলো উন্নয়নের আওতায় আনা উচিত।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ আনোয়ার কামাল জানান,সাতকানিয়া-বাঁশখালী- লোহাগাড়া- এ তিন উপজেলা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলা উপকূলীয় এবং পাহাড়ী অঞ্চল সমতে প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। ভৌগোলিক দিক দিয়েও সম্ভাবনাময় । ফলে উক্ত অঞ্চলসমূহ ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এ সব অঞ্চলে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে এদেশের অনেক জেলা ও বড় বড় শহরেও নেই। এ তিন উপজেলার সম্ভাবনাময় খাতকে উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আনতে পারলে প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। এখন শুধু প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি। উপজেলাবাসীও আশাবাদী, উক্ত সম্ভাবনাময় খাত এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে আসবে।

লেখক : সহ-অধ্যাপক,
আলহাজ মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম