গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপ-নির্বাচন

ভাসমান ও সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে হিসাব কষছেন প্রার্থীরা

সিফায়াত উল্লাহ

গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার ভাসমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের পেছনে ছুটছেন প্রার্থীরা।
জানা যায়, ওয়ার্ডে ভাসমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে দশ হাজারের বেশি। মূলত এই ভোটগুলো ভাগ্য নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন আগামীর কাউন্সিলর।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় মুখর গোসাইলডাঙ্গার জনপদ। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। লিফলেট-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পাড়া-মহল্লা। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে শুরু হয় মাইকিং। সন্ধ্যার পর পাড়া কিংবা বাড়ির সামনে বসে উঠোন বৈঠক। সেখানে নানান প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থীরা। বলতে গেলে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচারণা ততই বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় ভাসমান ভোটারের সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় কারখানা চালু করায় বাইরের অনেক লোকজন সেখানে ভোটার হয়েছেন। কিন’ এসব ভোটাররা তেমন কিছু জানেন না প্রার্থীদের সম্পর্কে।
ইকবাল হোসেন নামের এক গার্মেন্টস কর্মী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন এলাকায় আছি। তাই ভোটার হয়েছি এখানে। বাসার আশপাশে কিছু মানুষজনের সঙ্গে পরিচয় আছে। নির্বাচন হচ্ছে মাইকিং-পোস্টার দেখে জানলাম। তবে প্রার্থীদের সম্পর্কে তেমন একটা জানা নেই।’
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ লোকজন মধ্য ও পূর্ব গোসাইলডাঙ্গায় বসবাস করেন। নির্বাচনে জিততে তাদের ভোট বরাবরই টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই প্রার্থীরা প্রতিদিন ছুটছেন হিন্দু অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে।
অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওই এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নেয়ায় কিছুটা চিন্তিত প্রার্থীরা। এরমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী চলে যাওয়া ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এই কৌশলে কাউন্সিলর প্রার্থী বিবি মরিয়ম এগিয়ে আছেন এলাকার মানুষজন জানান।
এলাকাবাসী জানায়, বিবি মরিয়ম নারীদের নিয়ে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড চালান। ভাসমান ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাই তিনি কৌশলগত ভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন।
অন্যদিকে কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী মোরশেদ আলী বলেন, ‘আগে এলাকায় বিএসসহ কিছু কোম্পানির গার্মেন্টস ছিল। তবে অনেকগুলো গার্মেন্টস ও কারখানা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এজন্য অনেক ভাসমান ভোটার অন্য এলাকায় গিয়ে বসবাস করছেন।’
নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন মোরশেদ আলী (লাঠিম), জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (ঘুড়ি), বিবি মরিয়ম (টিফিন ক্যারিয়ার), সৈয়দ নুর নবী লিটন (রেডিও), মো. ইকবাল শরীফ (ঠেলাগাড়ি) ও মো. সাকের (ব্যাডমিন্টন)।
আগামী ২৯ মার্চ কাউন্সিলর উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ডের ১৪টি ভোট কেন্দ্রের ৭৩ বুথে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা দেড় লাখ। সর্বশেষ তালিকা অনুসারে এই ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫৪৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৫৩৯ জন ও মহিলা ১৫ হাজার ৫ জন।
এছাড়াও স’ানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ থাকে শপথ নেয়া জনপ্রতিনিধিদের। তাই উপ-নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নতুন যিনি আসবেন, তিনি মেয়াদের বাকি অংশটুকু দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রোববার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস’ায় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ৩১ ডিসেম্বর স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড সাধারণ কাউন্সিলর পদ শূন্য ঘোষণা করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।