সাকিবদের ঘটনায় বিসিবির দুঃখ প্রকাশ

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

শ্রীলঙ্কার ৭০তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নিদাহাস ট্রফি। যেখানে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ছাড়াও খেলছে বাংলাদেশ এবং ভারত। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে এখন ফাইনাল মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়। স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে ফাইনালে খেলবে দুই বিদেশি দল বাংলাদেশ এভং ভারত।
গত শুক্রবার ছিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এবং এই ম্যাচের শেষ ওভারে এসে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এমনকি ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক থিসারা পেরেরা ও বাংলাদেশের ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। যেখানে সোহানের আচরণ নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন উঠে গেছে। আইসিসিও তাকে এ কারণে জরিমানা করে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট ক্যারিয়ারের সাথে যোগ করে দিয়েছে।
শেষ ওভারে কাঁধের ওপর বাউন্সার ডেলিভারি দেয়ার পরও আম্পায়ার নিয়ম অনুযায়ী নো কিংবা ওয়াইড না ডাকায় বাংলাদেশ প্রতিবাদ করে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও স্ট্রাইক ব্যাটসম্যান মাহমুদউলাহ রিয়াদ এবং রুবেল হোসেনকে মাঠ থেকে উঠে আসতে বলেন। এ নিয়ে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাহমুদউলাহর বীরোচিত পারফরম্যান্সে জয় লাভ করে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে নিজেদের ড্রেসিং রুমের গাসও ভেঙে ফেলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। যা নিয়েও তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এমনকি সব ঘটনার তদন্ত করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) বলে ইতিমধ্যে জানা গেছে।
সব কিছু দেখার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মনে হয়েছে, যা ঘটেছে কিংবা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যে আচরণ দেখিয়েছেন এই ম্যাচে তা পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘণ এবং ক্রিকেট স্পিরিটের পরিপনি’। এ কারণে, বিসিবির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশ্বাস প্রকাশ করে।
বিসিবি থেকে আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দুঃখপ্রকাশের কথা জানানো হয়। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শুক্রবার নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের সময় অনাকাংখিত কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বিসিবি মেনে নিচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের আচরণ গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি, ম্যাচের পরিসি’তি, গুরুত্ব এবং চাপের কারণেই বিষয়টা এমন অনাকাংখিত অবস’ার দিকে চলে গেছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, ম্যাচের চরম মুহূর্তে দলের ক্রিকেটাররা পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে পারেনি। এ কারণে দলের খেলোয়াড়দেরকে তাদের দায়িত্বজ্ঞান সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্পিরিট অব ক্রিকেট যেন উচ্চকিত থাকে সব সময়- সেটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’
দু’দেশের বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের কথা উলেখ করে বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ‘ঐতিহাসিকভাবেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিসিবির গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ, পরস্পরের সম্পর্ক, সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দু’দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও দারুণ সম্পর্ক বিদ্যমান। যেটা দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’
নিদাহাস ট্রফি আয়োজনের স্বার্থকতা তুলে ধরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রশংসা করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা স্মরণ করতে চাই, নিদাহাস ট্রফির আয়োজন ছিল চমৎকার। তার চেয়েও টুর্নামেন্টটি ছিল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ। যেটাকে এই সেন্স থেকেই গ্রহণ করেছে ক্রিকেট বিশ্বের সমর্থকরা। অবশ্যই এ জন্য এসএলসি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। বাংলাদেশ দলও গর্বিত, এমন একটি মহত টুর্নামেন্টের অংশীদার হতে পেরে।’