উদ্বোধন ২৬ মার্চ

কুমিরায় স্মারক ভাস্কর্য ‘স্মৃতি ৭১’

আজিজুল কদির
IMG_5525

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কুমিরা যুদ্ধ ছিল এই অঞ্চলের পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম এবং শেষ যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে পাকবাহিনীর বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। পাকবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলসহ তাদের প্রায় দেড় শতাধিক সৈনিক প্রাণ হারায় এখানে। দীর্ঘদিন ধরে এ স’ানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে আসছিল স’ানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবতা পেল ‘স্মৃতি ৭১’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সীতাকুণ্ড ছোট কুমিরায় মহাসড়কের পাশে প্রথম সম্মুখযুদ্ধ খ্যাত কুমিরার স্মৃতিকে ধরে রাখতে ‘স্মৃতি ৭১’ আগামী ২৬ মার্চ উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
সীতাকুণ্ডের কুমিরায় মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধ স’লে ‘স্মৃতি ৭১’ নামে আধুনিক এই স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছে জেলা পরিষদ। স্মৃতিস্তম্ভটি ছোট কুমিরা কাচাঁবাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে জেলা পরিষদের ৪০ শতক নিজস্ব জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে। ‘স্মৃতি ৭১’র ডিজাইন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ সাইফুল কবির। এ স্মৃতিস্তম্ভের বাম দিকে ৭ ফুটের একটি ম্যুরাল আছে। এতে তিনভাগের একেকটি অংশে রয়েছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভুত্থান। অন্য এক প্যানেলে আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। মাঝখানে ১৬ ফুটের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। এই
মানচিত্রকে এমনভাবে কাটআউট করা হয়েছে, যার ফাঁক গলে পেছনের সবুজ প্রকৃতি দেখা যাবে। তাতে শিল্পী বুঝিয়েছেন সবুজ শ্যামল বাংলাদেশকে। বামপাশের একটা প্যানেলে রয়েছে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ ও অবশেষে বিজয়ের ম্যুরাল। যুদ্ধে পাকসেনাদের অত্যাচারের পর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিজয় উল্লাস। একবারে সম্মুখে গোলাকৃতির ভিত্তিতে রয়েছে চারটি উত্তোলিত হাত। তাতে রয়েছে কোনো হাতে স্টেনগান, কোনো হাতে রাইফেল, আবার একটা হাত মুষ্টিবদ্ধ। তাতে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় বিজয়ের স্মারক ফুটে উঠেছে। এসব নিয়েই নির্মিত ‘স্মৃতি ৭১’। এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে তের লক্ষ টাকা।
স্মারক ভাস্কর্যটি নিয়ে শিল্পী সৈয়দ সাইফুল কবির বলেন, আমারা বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে ধারবাহিকভাবে একটা মানচিত্র, একটা বাংলাদেশ পেয়েছি। তা-ই প্রতিফলিত হয়েছে এই ভাস্কর্যে। যা আমাদের চেতনায় প্রতিনিয়ত উদ্ভাসিত। যা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সচিব শাব্বির ইকবাল সুপ্রভাতকে জানান, চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের একটি অধ্যায়। নতুন প্রজন্মই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা করবে। এক্ষেত্রে কীভাবে দেশটা স্বাধীন হলো, কে বা কারা করলো? এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তাদের না থাকে, তাহলে তো দেশপ্রেম জাগ্রত হবে না। জানা হবে না মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা। আর সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক নির্মাণের এই প্রয়াস।
উল্লেখ্য, শিল্পী সৈয়দ সাইফুল কবিরের উল্লেখ্যযোগ্য স্মারক ভাস্কর্যের মধ্যে মিরসরাই আবু তোরাব এলাকায় হৃদয়বিদরাক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের স্মরণে ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ নামে নির্মিত দুটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘স্মরণ’, ‘স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল’ তাঁর আরো দুটি কাজ। টাঙ্গাইলের কালীহাটিতে ‘বিজয় ৭১’, মওলানা ভাসানী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ’ও তাঁর কাজ।