বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত নিয়ে ফিরলেন ৩ জন

‘কোনোভাবেই শঙ্কামুক্ত বলা যায় না’

সুপ্রভাত ডেস্ক
fc3e4767c47a2c503011b84773f

কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে নেপালে থেকে দেশে ফিরেছেন আরও তিনজন। গাজীপুরের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা এবং মেহেদীর ফুপাত ভাইয়ের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছান। খবর বিডিনিউজের। কিন’ অ্যানির স্বামী ফারুক হোসেন প্রিয়ক এবং তাদের শিশু সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামারার আর কখনো ফেরা হবে না। গত ১২ মার্চের ওই দুর্ঘটনায় যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, প্রিয়ক আর তামারাও রয়েছে তাদের মধ্যে। অবশ্য অ্যানিকে এখনও তা জানানো হয়নি।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মেহেদী, স্বর্ণা আর অ্যানিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন দেশে ফেরা শেহরিন আহমেদও ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।
নেপালে বেঁচে যাওয়া দশ বাংলাদেশির মধ্যে শেখ রাশেদ রুবাইয়াত,
কবির হোসেন ও মো. শাহীন বেপারিও রোববার দেশে ফিরবেন বলে স্বাস’্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক এএইচএম এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী মেহেদী আর আলোকচিত্রী প্রিয়ক সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই। তাদের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামে।
দুই পরিবারের পাঁচজন মিলে গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ তে নেপাল যাচ্ছিলেন। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন বাংলাদেশি।
দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় অধিকাংশ মরদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। নেপালের মর্গে প্রিয়ক বা তার মেয়ের লাশ দেখার সুযোগ হয়নি স্বজনদের। মেহেদীর বাবা তোফাজ্জেল হোসেন, যিনি আবার প্রিয়কের মামা, শুক্রবার বিকালে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টায় মেহেদীই নেপাল থেকে ফোন করে খবরটা দেয়। ওরা বেঁচে গেছে। কিন’ প্রিয়কের মা এখন পাগল প্রায়।’ দুর্ঘটনার ক্ষত নিয়ে দেশে ফেরা অ্যানি, মেহেদী আর স্বর্ণাকে আরও ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাদের তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের শারীরিক অবস’া সম্পর্কে কথা বলেন।
তিনি বলেন, মেহেদীর ঘাড়ের কশেরুকায় ফ্র্যাকচার হয়েছে। আর অ্যানির ফ্র্যাকচার ডান পায়ে। স্বর্ণার কোমরের বাঁ দিকে ব্যথা আছে, সেটা এক্সরে করে দেখতে হবে। তবে কারও বড় ধরনের ‘বার্ন ইনজুরি’ নেই।
‘তারপরও তাদের শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। কারণ শ্বাসতন্ত্রের ইনজুরি রয়েছে। এ ধরনের রোগীদের কোনোভাবেই শঙ্কামুক্ত বলা যায় না। তবে জেনারেলি তাদের অবস’া স্টেবল বলা যায়।’ স্বাস’্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক এএইচএম এনায়েত হোসেন জানান, আহত এই তিনজনকে আরও অন্তত ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে। নেপাল বিমান দুর্ঘটনায় আহত সবার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার কথা জানিয়ে সামন্ত লাল বলেন, এই বোর্ড রোববার দেখে সিদ্ধান্ত জানাবে।