পেকুয়া

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ঢুকে হামলা গুলিবিদ্ধ ৩, বসতঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে পরিবারের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের জুমপাড়া মালঘারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় আরো একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর স’ানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস’ায় ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার সকালে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে টইটং ইউনিয়ন ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল হামিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের অস্ত্রধারী তার বাড়িতে হানা দেয়। ঘরের টিনের বেড়া কেটে বাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে তারা। এ সময় বাড়ির লোকজন বাঁচতে চিৎকার করলে গ্রামবাসী ছুটে আসে। পরে গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে অস্ত্রধারীরা গুলি ছোড়ে। দুর্বৃত্তদের ছোরা গুলিতে ওই গ্রামের মৃত নুরুল কাদেরের ছেলে
আবদুল হামিদ (৩৫), সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী নুর আয়েশা বেগম (২৬), ওমর আলীর পুত্র ইউনুছ (২০) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স’ানীয় মৃত বদরুজ্জামানের ছেলে জাবের (২৫) ও আবদুল হামিদের মা আমেনা খাতুন (৫৫) কে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার পরপর টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাম পুলিশসহ রাতে ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন।
আহত আবদুল হামিদের ভাই আবদু রহিম, স্ত্রী হামিদা বেগম, আবদু রহিমের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানায়, ওই দিন রাতে তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় ৫-৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বাড়ি আক্রমণ করা হয়। আবদুল হামিদকে তুলে নিতে তারা বাড়ির চালের টিন ও বেড়া কেটে ফেলে। ঘটনার সময় অস্ত্রসহ ১৫-২০ জন মুখোশধারী নেতৃত্ব দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফরায়েজী হত্যা মামলার আসামি নাপিতখালীর জাকের আহমদের ছেলে শাহাদাত হোসেন মেম্বার, খুইন্নাভিটার মৃত বাদশার ছেলে খোকন, মৃত বদিউল আলমের ছেলে হেলাল, উকিল আহমদের ছেলে ফরায়েজী হত্যা মামলার আসামি আবদুল জলিল, আবু তালেব, দানু মিয়ার ছেলে খানে আলমসহ দুর্বৃত্তরা এ তাণ্ডব চালায়।
স’ানীয় আবদুল গফুরের স্ত্রী জোবাইদা বেগম জানায়, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ৩ বছরের ছেলে আবদুল্লাহ নুর ফয়সালকে ধারালো দা দিয়ে খুন করতে চেয়েছিল। আমি পায়ে ধরে ছেলেকে রক্ষা করেছি।
ইউপি সদস্য আবুল কাসেম জানায়, খবর পেয়ে পাথরী খিলা পাহাড়ে আবদুল হামিদের বাড়িতে ছুটে গিয়েছি। তারা রাতে এ হামলা করে।
টইটং ইউনিয়ন ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মিকার ও সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম জানায়, আবদুল হামিদকে খুন করতে এ ঘটনা। তিনি ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগেও ফরায়েজী হত্যা মামলার আসামিরা জুমপাড়ায় আওয়ামী লীগের অফিস পুড়িয়ে দেয়।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মনজুর কাদের মজুমদার জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস’লে গিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা করবে পুলিশ।