বাঁশখালীর ১১ হত্যা মামলার আসামী জসিমকে গণপিটুনি

পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

বাঁশখালীর আলোচিত ১১ হত্যাকাণ্ড মামলার অন্যতম আসামি, দুর্ধর্ষ ডাকাত মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম্যা(৩৮)কে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, ডাকাতি, হত্যা ও সন্ত্রাসী ঘটনার অভিযোগে আরও ৮টি মামলা রয়েছে। আহত অবস’ায় ডাকাত জসিম্যাকে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা গ্রামের মৃত আব্দুর শুক্কুরের পুত্র। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে নানাভাবে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করে আসছিল।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম্যা
গতকাল শুক্রবার ৯টায় বাহারছড়া ই্উনিয়নের রায়ছটা গ্রামে একটি চা’য়ের দোকানে বসে বিভিন্ন মানুষের নাম ধরে গালিগালাজ করছিল। ওই সময় উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটক করে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এসময় তার মাথার পিছনের অংশসহ শরীরের বিভিন্নস’ান জখম হয়। পরে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস’লে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়।
স’ানীয় বাসিন্দারা বলেন, জসিম্যার কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে। সে এতদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সশস্ত্র অবস’ায় গ্রামে ঘুরে বেড়াত। তাই গ্রামবাসীও ভয়ে মুখ খুলত না। গতকাল অস্ত্র ছাড়া দোকানে পেয়ে গ্রামবাসী আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিলে ব্যাপক অস্ত্র উদ্ধার হবে।
হাসপাতাল বেডে শোয়া অবস’ায় জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম্যা ডাকাত এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘১১ হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে সে দুই বছর আগে জামিনে বের হয়েছে। মামলার হাজিরা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে আবারো ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। তাই সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।’
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা আটক করার পর গণপিটুনি দেয়ার খবর পেলে পুলিশ জনতার কবল থেকে জসিম্যাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’