ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক

বিমান বিধ্বস্তের জন্য কন্ট্রোল রুম দায়ী নয়

সুপ্রভাত ডেস্ক গ্ধ
নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের সময় ইউএস-বাংলার বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন বিমানবন্দরের মহাব্যবস’াপক রাজকুমার ছত্রী। তিনি বলেছেন, ‘ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পাইলটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল শুধু গাইড দেয়। কিন’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাইলটের।
পাইলট যদি বলেন ল্যান্ড করবো না, তাহলে সেটাই ফাইনাল।’ খবর বাংলাট্রিবিউনের।
দুর্ঘটনার ব্যাপারে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস’াপক রাজকুমার ছত্রী বলেন, ‘এ ঘটনার পরে কন্ট্রোল টাওয়ার ও পুলিশের কাছ থেকে আমি জেনেছি, ল্যান্ড করার সময় বিমানটির অ্যালাইনমেন্ট ঠিক ছিল না। এটা স্বাভাবিক ল্যান্ডিং ছিল না। আমাদের একজন ভাই প্যাসেঞ্জার ছিল ওই বিমানে, সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে আমাকে বলেছে- দাদা, যখন আমাদের ল্যান্ড করার সময়, তখন প্লেনটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিচ্ছিল, তখন সবাই চিৎকার ও কান্না শুরু করেন।’ বিমানটি ল্যান্ড করার আগেই বাঁচাও বাঁচাও বলে যাত্রীদের কান্নার রোল উঠেছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের বরাত দিয়ে রাজকুমার ছত্রী আরও বলেন, ‘বিমানটি স্বাভাবিকভাবে ল্যান্ড করেনি। রানওয়েতে সোজা না নেমে আড়াআড়িভাবে ল্যান্ডিং করেছিল বিমানটি। এরপর স্কিড করে যেতে থাকে। এভাবেই রানওয়ের পাশের ড্রেন পার হওয়ার পর আগুন ধরে যায় বিমানটিতে।’
তার দাবি, পাইলট ল্যান্ডিংয়ের গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পাইলট চাইলে শেষ মুহূর্তে নিজের ইচ্ছের প্রাধান্য দিতে পারতো বলেও জানান তিনি।
এই পাইলট এর আগেও একশ’বার ল্যান্ড করেছেন ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে, এটা তার জন্য নতুন না। তাহলে সমস্যা কোথায় হয়েছে তা জানতে চাইলে রাজকুমার ছত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ট্রিকি কোশ্চেন।’
বিমানটির ল্যান্ডিংয়ের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘এ বিমানবন্দরে নব্বই শতাংশ ফ্লাইট দক্ষিণ দিক থেকে ল্যান্ড করে। ইউএস-বাংলার ফ্লাইটকেও দক্ষিণ দিক থেকে ল্যান্ড করতে বলা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম থেকে। যখন পাইলট সাউথ রানওয়ে ক্রস করে নর্থ রানওয়ের দিকে চলে যায়, তখন পাইলটকে কন্ট্রোল রুম থেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনাকে দক্ষিণ দিকে (টু-জিরো) নামতে বলা হয়েছে কিন’ আপনি উত্তর দিকে চলে গেলেন কেন? উত্তরে পাইলট বলেছেন, আমি শুনেছি জিরো-টু (মানে, উত্তর দিক)। পরে তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে জানতে চাওয়া হয়, আপনি কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। পাইলট জানান, না দেখা যাচ্ছে না। তারপরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে জিরো-টু ও টু-জিরো দুই রানওয়েই উম্মুক্ত করে দেয়। তখন পাইলট জানান, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে।’
চূড়ান্তভাবে ল্যান্ডিং করার আগে রানওয়ের ব্যাপারে পাইলটকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজকুমার ছত্রী বলেন, ‘নামার আগে পাইলট রানওয়ে পরিবর্তন করেছে। তাকে টু-জিরো’তে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন’ পাইলট টু-জিরো (দক্ষিণ দিক) ক্রস করে জিরো-টু’তে (উত্তর দিক) চলে গেছেন। তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আপনাকে টু-জিরো’তে নামতে বলা হয়েছে। আপনি তা ক্রস করলেন কেন? তখন ক্যাপ্টেন সাহেব বলেছেন, আমি জিরো-টু’তে নামব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় আমরা সবাই কন্ট্রোল টাওয়ারের নিচেই এক ভবনে মিটিংয়ে ছিলাম। সাইরেনের শব্দ শুনে আমরা বের হই। টাওয়ার থেকে চারশ’ মিটারের মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আগুন দেখা যায়। তখন দ্রুত বের হয়ে ঘটনাস’লে যাই, গাড়িও নেইনি। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই হেঁটে পৌঁছে গেছি সেখানে। গিয়ে দেখি আমাদের দুটি ফায়ার ভেহিক্যালস ও অ্যাম্বুলেন্স ততক্ষণে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরপর আমি আর্মি, পুলিশ, উদ্ধারকর্মীসহ উদ্ধার অভিযান শুরু করি। তখন এত আগুন ছিল সেখানে, আমি জীবনেরও এমন আগুন দেখিনি। এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। কিন’ যেরকম উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়। না হলে একজন মানুষও বাঁচতে পারত না।’
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ইউএস-বাংলার বিমানটির কন্ডিশন খারাপ ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তেমন কোনও রিপোর্ট কখনও পাইনি। আর এটা বাংলাদেশের দায়িত্ব। বিমানের কোনও ক্রুটি আছে কিনা, আকাশে ওড়ার আগে পাইলট স্বাভাবিক আছেন কিনা, এসব চেক করার দায়িত্ব বাংলাদেশের।’
দুর্ঘটনার যে অডিও রেকর্ডটা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তা সত্য কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। সবাই এটা নিয়ে কথা বলছে। এটা হতে পারে।’ এ ঘটনার তদন্ত শেষ করতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।