আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

ক্রেতাদের আগ্রহ গৃহস্থালি পণ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল থেকেই আবহাওয়ায় গুমোট ভাব। ঠাণ্ডা একটা আমেজ। বাইরে যেতে মন চায় না। তবুও ছুটির দিন বলে কথা। তাই সকালে তেমন লোকজন না থাকলেও বিকেলে কিছুটা জমে উঠেছে ২৬তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সুযোগটি হাতছাড়া করেননি অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী। বিশেষ করে চাকরিজীবী ও গৃহিনীদেরই উল্লেখযোগ্য উপসি’তি ছিল।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মেলা প্রাঙ্গণে দোকানিদের ভিড় রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড চত্বর ছাড়িয়ে আশেপাশের রাস্তায়ও ছড়িয়েছে। কিন’ অন্যান্য ছুটির দিন মেলার বিক্রেতাদের হিমশিম খেতে হলেও গতকাল শুক্রবার যেন মেলারও ছুটির দিন ছিলো। তাই বিক্রেতাদের দেখা যায় ক্রেতার অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকতে।
মেলার স্টলগুলোর বেশিরভাগই গৃহস’ালি সামগ্রী, প্রসাধনী ও তৈরি পোশাক দিয়ে সাজানো। সেখানে দেওয়া হচ্ছে পণ্যে ভেদে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। মেলায় দর্শনার্থী ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি গৃহস’ালি ও প্রসাধনী পণ্যের দোকানগুলোতে।
কাঠের তৈরি রুটিমেকার নিয়ে মেলায় এসেছেন আমজাদ হোসেন। মুখে মাইক্রোফোন লাগিয়ে অনর্গল ডেকে যাচ্ছেন দর্শনার্থীদের। আটার কাই রুটি মেকারে রেখে দেখাচ্ছেন বেলনের পরিবর্তে কিভাবে চটজলদি রুটি তৈরি করা যায়। জানালেন, সেই টাঙ্গাইল থেকে এসেছি চট্টগ্রামের এই মেলায়। সকালে ব্যস্ততার কারণে অনেকে নাস্তা তৈরি করতে পারেন না। তাই কাজ যত দ্রুত করা যায়, তাই পছন্দ। আমাদের প্রোডাক্টের প্রতি বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। তবে আজ (শুক্রবার) ছুটির দিন বলে ক্রেতা যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমনটা পাইনি। আবহাওয়া ভালো নয় দেখে মেলায় মানুষ তেমন এলোই না।
একইসঙ্গে প্লাস্টিক সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, জুয়েলারি, সিরামিকসের স্টলেও দেখা গেছে ক্রেতাদের আগ্রহ। এছাড়া ফার্নিচার সামগ্রী, জুতা, পারফিউম,
রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ইন্ডাকশন চুলা, সবজি কাটার মেশিন, কসমেটিকস, জুস মেকার, ওভেন, খেলনা, স্পোর্টস গুডস, কনজ্যুমার গুডস, প্রসাধনী, তথ্য প্রযুক্তি, ওয়াটার পিউরিফাইয়ার, দেশি-বিদেশি বস্ত্র, ফুটওয়্যার, মেলামাইন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্প, অ্যালুমিনিয়ামসহ অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় নানা গৃহস’ালি পণ্য বিক্রি হচ্ছে বেশ।
বিভিন্ন জুতার দোকানে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় মেয়েদের স্যান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে। ন্যূনতম ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে রকমারি মাথার ক্লিপ। মেয়েদের ব্যাগ মিলছে ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায়। ৫০০ টাকায় ছোটদের ফ্রক, বড়দের টপস ৬০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, বেডশিট ৫৫০ থেকে ১ হাজর টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আসন্ন নববর্ষ উপলক্ষে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি, বাহারি থ্রিপিচ, ছোটদের বিভিন্ন পোশাকও কিনছেন ক্রেতারা।
পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুদ হাসান। তিনি জানান, ছুটির দিন ছাড়া পরিবার নিয়ে বের হতে পারি না। শুক্রবার আমাদের ঈদ বলতে পারেন। সকালে আবহাওয়া দেখে ভেবেছিলাম, মেলায় আসবো না। কিন’ বাচ্চাদের কথা দিয়েছি। নিজেরও সময় নেই যে, অন্য কোনোদিন আসবো। তাই এই মেঘলা দিনেও পরিবারকে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার জন্য মেলায় এসেছি। সংসারের জন্য নানা ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী কিনেছেন আমার স্ত্রী। বাচ্চারা খেলনার সামগ্রী নিয়েছে। আর এবারের মেলায় বিজ্ঞান বাক্সটা বেশ চলছে। তাই তাদেরকেও নিয়ে দিলাম। বিজ্ঞানে কিছুটা শিখুক।
এদিকে মেলা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন, দেশের এসএমই শিল্পের প্রসার ও মান উন্নয়নে ২৬তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ। বাংলাদেশে এসএমই খাতের বিকাশের লক্ষ্যেই মূলত মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া মেলার নিরাপত্তা জোরদার করেছি আমরা। ব্যাংক ও বিকাশের শাখা আছে এখানে। যেখানে সহজেই তারা রাত পর্যন্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন। কেউ কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত সমাধান করছি। মাসব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।