ছুটির দিনে বেড়াতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘এত পশুপাখি থাকলেও বাঘ-সিংহই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ। সাথে এতদিন পর যুক্ত হলো জেব্রা। এতদিনে মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ হয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। শুধু জায়গাটাই ছোট, এই যা।’ বলছিলেন সরকারি চাকরিজীবী সাহেদা চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন এ কথা। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী দর্শনার্থী ভিড় করেন এ চিড়িয়াখানায়। দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানার প্রবেশ ফি ৩০ টাকা। এক বছরের মধ্যে চিড়িয়াখানায় বাঘ-সিংহের অভাব পূরণ হয়েছে। সাথে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চিড়িয়াখানায় যুক্ত হয়েছে ৬টি আফ্রিকান জেব্রা। এছাড়া এখানে রয়েছে একটি দুর্লভ প্রজাতির গয়াল, সাম্বার হরিণ, মিঠা পানির কুমির, ময়ূর, শকুন, সজারু, অজগর, বানর, ভাল্লুুক, শিয়াল, বুনো হলুদ কাছিম, তিতির, তুর্কি মোরগ, মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি।
বাবা-মায়ের সাথে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছিলো স্কুল শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া মুৎসুদ্দী। সুপ্রভাতকে জানায়, ‘এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যটা বেশ। সবার দুষ্টুমিভরা আকর্ষণ থাকে বানরের খাঁচাতে। পাহাড়ের কোলে ঘুরে বেড়ানোর অনেক জায়গা। সবচেয়ে বড় কথা ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য অনেক আয়োজন রয়েছে। যা শিশুদের আকর্ষণ করে।’
চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি
সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, চিড়িয়াখানার অনেক উন্নয়নকাজ হয়েছে। চারদিকে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। এখন রাস্তাগুলো পাকা করার কাজ চলছে। আগামী দিনে আমরা আরও নতুন নতুন পশুপাখি সংগ্রহের চেষ্টা করছি।’
তবে চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের জন্য আরো আকর্ষণ অপেক্ষা করছে বলে জানান পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমার দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এর একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যটি নতুন প্রাণী সংগ্রহ। মাত্র তো ৬০ শতাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো ৪০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। মূল গেইটের সামনেই একটি অ্যাভিয়ারি পার্ক করা হবে। পাহাড়ের ওপরও বসার জন্য ব্যবস’া করা হবে। দুটি বাঘ ও একটি সিংহ আনার পর এবার আনলাম ছয়টি জেব্রা। আগামীতে চিড়িয়াখানায় একটি পরিপূর্ণ শিশুপার্ক করতে চাই আমরা।’