আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি

মিঠাছড়িতে বসতভিটা দখলে মরিয়া প্রতিপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

আড়াই লাখ টাকা চাঁদার জন্য অসহায় পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে নিজেদের দখলে নিতে প্রতিপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে।যে কোন মূহুর্তে এ জমি দখলের ঘটনায় প্রাণহানির আশংকা করছেন এলাকাবাসী। স’ানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ বছর ধরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি গ্রামের কালা খন্দকার পাড়ায় শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন জেবুল হোসেন ও তার স্ত্রী জরিনা বেগমসহ পরিজনরা।তাদের বসবাসকৃত ৯ শতক জমির উপর দৃষ্টি পড়ে স’ানীয় মনছুর আলম,মনজুর আলম, মিজানুর রহমানসহ তাদের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের। জরিনা বেগম জানান, বসতভিটায় দূর্বৃত্তরা বেশ ক’বার হামলা চালিয়েছে।এমনকি হামলায় বাধা দিতে গিয়ে তার ছেলে ফজল করিম দূর্বৃত্তদের হামলায় ছুরিকাহত হয়।প্রতিদিনই দূর্বৃত্তের দল হুমকি দিচ্ছে। যে কোন মূহুর্তে তারা পরিবারের উপর হামলার আশংকার কথা জানান তিনি।জরিনা বেগমের স্বামী জেবুল হোসেন জানান,উক্ত জমি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্তি দেয়া হয় ২০/০৯/২০০১ সালে। যার নম্বর- ২৪৭৬। যা পরবর্তীতে ৮৯৪ নম্বর খতিয়ান সৃজিত হয়।দূর্বৃত্তদের কোন স্বত্ব না থাকা স্বত্বেও বারবার তারা বসতভিটা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।উপায় না দেখে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ২৫/০৪/২০১৬ সালে উক্ত জমি উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনও দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে বলে জানা যায়। এদিকে জরিনা বেগম জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার নিকট আইনগত ব্যবস’া গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষ এ্যাডভোকেট কমিশনার হারুনর রশিদ ও মুরশেদুর রহমানকে সরজমিন পরিমাপ করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেয়। গত শুক্রবার আদালতের নির্দেশে কমিশনারদ্বয় ঘটনাস’লে গেলে দূর্বৃত্তের দল ধারালো কিরিচ,লোহার রড ও ইত্যাদি নিয়ে তাদের উপর হামলা করতে ধাওয়া করে।একপর্যায়ে হামলা থেকে বাঁচতে তারা ঘটনাস’ল ত্যাগ করে। জরিনা বেগম আরো জানায়,দুর্বৃত্তরা তাদের পরিবার থেকে আড়াই লাখ টাকার চাঁদা দাবি করছে। নয়তো উক্ত জমিতে বসবাস করতে দেবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছে। এদিকে অভিযুক্ত মনছুর আলম,মনজুর আলম,মিজানুর রহমান ঘটনার কথা অস্বীকার করে জানান,আমরা তাদের উপর হামলা করিনি। উক্ত ৯ শতক জমি নিয়ে আদালতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এলাকাবাসী জানায়,উক্ত জমি দখলের ঘটনায় যে কোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।