বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে হবে

আজ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘ডিজিটাল বাজার ব্যবস’ায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ’। বর্তমানে বাংলাদেশে পণ্যে ভেজাল একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে। ভেজাল ও নকল পণ্যে বাজার এত সয়লাব যে, অজস্র নকল ও ভেজাল পণ্যের ভিড়ে আসল বা প্রকৃত পণ্যটি পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশে কিছু কিছু ভেজাল ও নকল পণ্য বেচাকেনা হয়ে থাকলেও খাদ্য ও ওষুধের মতো পণ্য কখনো নকল বা ভেজাল করার সাহস করে না কেউ। কিন’ বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এখানে খাদ্যে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল এমনকি শিশুখাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধও ভেজাল ও নকল হচ্ছে অবারিতভাবে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা এবং কিছু কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও দুর্বলতার কারণে ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ হচ্ছে না দেশে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের জীবনধারা বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বিপণন ব্যবস’াও। প্রচলন হয়েছে ই-কমার্স বা ডিজিটাল বাজার ব্যবস’ার। মানুষের ব্যস্ততা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট স’ানে গিয়ে পণ্য কেনার ঝামেলা, সড়ক পথের ট্রাফিক জ্যাম এবং অর্থ ও সময় বাঁচানোর তাগিদে বর্তমানে অনেকে অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকেছেন। পাশ্চাত্যে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে বেশ আগে থেকেই। বর্তমানে বাংলাদেশেও অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অনলাইন কেনাকাটার জন্য। কিন’ দুঃখজনক হলো এখানে অনেক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ক্রেতাদের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারকরা ঠকাচ্ছে ক্রেতাদের। এমন বেশকিছু ঘটনার ফলে ক্রেতারা অনলাইন শপিং থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে এইসব প্রতিষ্ঠানের স’ায়ী কোনো ঠিকানা, সরকারি নিবন্ধন না থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না ক্রেতাসাধারণের।
প্রতারণার এই নতুন ক্ষেত্র নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফলে এবারের ভোক্তা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে ডিজিটাল বাজার ব্যবস’ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, এ দেশের ভোক্তারা দীর্ঘকাল থেকে নানাভাবে প্রতারিত হয়ে আসছে। কিন’ সচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তারা প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আছে। সে আইনে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে অনেক কথা বলা হয়েছে এবং শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কিন’ বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন চোখে পড়ে না।
ভোক্তারা দেশে নানাভাবে বঞ্চিত হয়। শুধু নকল বা ভেজাল পণ্য কিনেই যে ঠকছেন তা নয়। দামে এবং ওজনেও তাদের প্রতিনিয়ত ঠকানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সম্মুখে দৃশ্যমান স’ানে পণ্যমূল্য তালিকা রাখার কথা থাকলেও সামান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই আইনটি মানেন। পণ্যমূল্যও কখন কেন বাড়ানো হয় তার জন্যও কোনো জবাবদিহিতা নেই কোথাও। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখে না। ফলে ক্রেতা বা ভোক্তাদের পক্ষে বলার জন্য শক্তিশালী কোনো প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন জোরালো ভূমিকা পালন করে না। ভোক্তা অধিকার আইন শুধু কাগজে-কলমে না রেখে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ দরকার। ভোক্তাদের অধিকার সমুন্নত রেখে সঠিক বাজার ব্যবস’াপনা গড়ে তোলা দরকার।