সিরিয়া সংকট

হামলা বন্ধে আসাদ বাহিনীর প্রতি ইইউ’র আহ্বান

নতুন রাসায়নিক অস্ত্র কারখানার সন্ধান

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

পূর্ব ঘৌটায় হামলা বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার সংস’াটির নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এ আহ্বান জানান। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আসাদের পৃষ্ঠপোষক রাশিয়ার ঘোষিত দিনে পাঁচ ঘণ্টা অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ওপর জোর দেন। প্রয়োজনীয় মানবিক সামগ্রী সরবরাহ ও আহতদের সরিয়ে আনতে এর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, এই অস্ত্রবিরতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটাই যথেষ্ট নয়। খবর বাংলাট্রিবিউন।
এদিকে অবরুদ্ধ পূর্ব ঘৌটায় আসাদ বাহিনীর হামলায় আহতদের সরিয়ে নিতে আসাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাশিয়ার সঙ্গে সোমবার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বিরোধী দল জৈশ আল ইসলাম। এর আওতায় মঙ্গলবার ১৫০ জন আহত ব্যক্তিকে পূর্ব ঘৌটা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সিরিয়ায় জাতিসংঘের শীর্ষ ত্রাণ কর্মকর্তা আলি আল-জাতারি বলেন, আমরা আশা করছি পূর্ব ঘৌটা থেকে বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
আসাদবিরোধীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব ঘৌটায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। ২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সেখানে বিমান হামলা শুরু করে রাশিয়া সমর্থিত আসাদ বাহিনী। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পূর্ব ঘৌটায় বিমান হামলা বন্ধ করতে একটি সর্বসম্মত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাশ হলেও আইএস, আল-কায়েদা ও আল নুসরা ফ্রন্টের মতো জঙ্গিদের জন্য এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর ছিল না। জাতিসংঘের মানবাধিকার সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয়ের মতে এই এক মাসের কম সময়ে সেখানে সহগ্রাধিক বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
রাশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে জৈশ আল ইসলাম জানিয়েছে, তারা আসাদের মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে। সমঝোতা অনুযায়ী আহত বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সকালে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসামরিকরা পূর্ব ঘৌটা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। শহরটির বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। তাদের বিমান হামলায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুমা ও হারাস-া শহর। দুমায় খোলা আকাশের নিচেই ঘুমাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে কমবেশি ৩ লাখ ৫০ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া গৃহহীন হয়েছেন এক কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।
এদিকে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌটায় রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির আরও একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সরকারি বার্তা সংস’া সানা জনিয়েছে, সমপ্রতি মুক্ত করা আশ-শাইফুনিয়া শহরে গোপন একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও তল্লাশির সময় কারাখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। খবর জাগোনিউজ।
সিরিয়ার এক সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সানা জানিয়েছে, দুইতলা একটি ভবনে সন্ত্রাসীরা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে সৌদি আরব থেকে আসা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছিল। ওই কারখানা থেকে বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাকফিরি সন্ত্রাসীদের কিছু লোগো, বই-পুস্তক, নানা ধরনের বিস্ফোরক, প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির উপকরণ এবং ভয়াবহ ক্লোরিন উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনটিতে উঁচ্চ মাত্রার প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। ২০১৩ সাল থেকে এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা।