জুরাছড়িতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

৩৬ ইউনিয়নে সুবিধা পাচ্ছে ৪৪৭ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, জুরাছড়ি

পাহাড়ের একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না। যারা গৃহহারা হয়েছে, তারা ঘর পাবে। কেউ বিনা চিকিৎসায় মরবে না। সকল ছেলেমেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে ১০ টাকা মূল্যের চাল বিক্রির উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা একথা বলেন।
তারা আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস’্যসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তার মধ্যে হতদরিদ্রদের জন্য স্বল্পমূল্যে চাল সরবরাহ, ভিটা আছে ঘর নেই এমন পরিবারদের বাসগৃহ নির্মাণ, প্রান্তিক এলাকায় কমিনিউটি ক্লিনিক স’াপনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে স্কুল স’াপন করছে সরকার। মঙ্গলবার জুরাছড়ি বনযোগীছড়া ইউনিয়নের ধামাইপাড়া কেয়াং বাজারের ডিলার রাজেশ চাকমার দোকানে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশিষ চাকমা, সাংবাদিকগণ, জনপ্রতিনিধি ও স’ানীয় হেডম্যান-কার্বারিগণ উপসি’ত ছিলেন।
অন্যদিকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মৈদং ইউনিয়নের শীলছড়ি বাজার সংশ্লিষ্ট ডিলার অরুন চাকমার দোকানে ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের বরকলক বাজারে সংশ্লিষ্ট ডিলার রনজিত চাকমার দোকানে একই বিষয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বনযোগীছড়া ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ১৩৫ জন, মৈদং ইউনিয়নে ১৩৫ জন ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে ১৭৭ জন হতদরিদ্র নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রতি কেজি ১০ টাকা হারে ৩০ কেজি চাল ডিলারের নিকট থেকে কিনতে পারবে।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর- প্রতি বছরের এই পাঁচ মাস দেশের গরিব মানুষের কষ্ট হয়। এ সময় বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে। তাই এই পাঁচমাস তাদের প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে ৬৭ দশমিক ৫০ টন চাল বিতরণ করা হবে।