ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনা

শোক প্রকাশের ভাষাও ক্ষীণ হয়ে আসে

আর মাত্র কয়েক মিনিট। তারপরই বিমান থেকে নামতে শুরু করবেন আরোহীরা। কিন’ কে জানতো মৃত্যু যে তাদের পাহারা দিয়ে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছেছে। অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি ছিটকে পড়ে রানওয়ের পাশে একটি ফুটবল মাঠে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী, দুজন পাইলট এবং দুজন কেবিন ক্রু ছিলেন। এরমধ্যে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ২৬ বলে জানিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। আহত ১০ জন নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে তারা।
গত সোমবার নেপালের স’ানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিট অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপালের সেনা সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় উড়োজাহাজের পাইলট, ক্রু এবং যাত্রীসহ মোট ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১জন নেপালী শিক্ষার্থী ছিলেন। যারা বাংলাদেশে পড়াশোনা করতেন। এর আগে একবারই মাত্র বাংলাদেশি কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল।
১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট খারাপ আবহাওয়ার কারণে অবতরণের সময় ঢাকা বিমানবন্দরে বিমানের একটি ফকার উড়োজাহাজ জলাভূমিতে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সে দুর্ঘটনায় মোট ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। সে দুর্ঘটনা ছিল বাংলাদেশের মাটিতে ঘটা প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা এবং এয়ারলাইনসের সবচেয়ে খারাপ দুর্ঘটনার একটি।
দুর্ঘটনার খবরে বাংলাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশ থেকে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভ্রান্তির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ইউএস বাংলার জেনারেল ম্যানেজার বলেছেন, নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন ও ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হবে। দুর্ঘটনার পর বিমানটির ব্লাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তা অনেক সহায়ক হবে।
দুর্ঘটনায় পরপর ইউএস বাংলার এই বিমানটি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে এর আগে একই বিমানটিতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। যা হোক এখন পরস্পর দোষ চাপানোর সময় নয়। মানুষের মৃত্যুতে শোকাহত জাতি আজ। মৃতের স্বজনদের শান্ত্বনা জানানোর ভাষাও আমাদের ক্ষীণ হয়ে আসছে। এত মানুষের এই আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন হলেও মেনে নিতে হবে যে, মৃত্যু কখনো বলে কয়ে আসে না।
আশা করব, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিশ্চিত হবে।