কানাডা প্রবাসীর সাথে তরুণীর প্রেম-বিয়ে অতঃপর ...

প্রচুর অর্থ যাওয়ার পর বুঝলেন প্রতারণার ফাঁদ!

মোহাম্মদ রফিক

কানাডা প্রবাসী রাউজানের এক যুবককে বিয়ের ফাঁদে ফেলে বোয়ালখালীর এক তরুণী ও তার মা বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আদালতে হলফনামার মাধ্যমে যুবকটিকে বিয়ে করার পর তাকে না জানিয়ে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে বর্তমানে আরেক যুবকের সাথে সংসারও করছেন ওই তরুণী। অভিযোগ ভুক্তভোগী যুবক শিব ঠাকুর মজুমদারের।
প্রতারণার অভিযোগ উঠা ওই তরুণীর নাম ছন্দা পারিয়াল। তার বাবা সুভাষ কান্তি পারিয়াল। মা পূর্ণিমা পারিয়াল। তারা কধুরখিল এলাকার কান্দুরখিল গ্রামের পুলিন চক্রবর্তীর বাড়ির স’ায়ী বাসিন্দা। গতকাল
কানাডা থেকে ফোনে সুপ্রভাতকে শিব ঠাকুর মজুমদার জানিয়েছেন, ছন্দা পারিয়াল এবং তার মা পূর্ণিমা পারিয়ালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস’তি নিচ্ছেন।
অভিযোগ, ২০০৯ সালে ছন্দা পারিয়ালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শিব ঠাকুরের। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্টতা বাড়ার এক পর্যায়ে ছন্দাকে বিয়ে করার শর্ত হিসেবে শিব ঠাকুরকে যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশোনা শেষ করতে বলেন পূর্ণিমা পারিয়াল। শর্ত মেনে নিয়ে শিব ঠাকুর চলে যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ২০১১ সালে স্কলারশিপ নিয়ে লন্ডন থেকে কানাডায় চলে যান শিব ঠাকুর।
পারিবারিক নানা সমস্যার কথা বলে শিব ঠাকুরের কাছে টাকা চেয়ে বসে ছন্দা ও তার মা। শিব ঠাকুর সাড়া দেন। কানাডা থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ছন্দার ব্যংক হিসেবে টাকা পাঠাতে থাকেন শিব ঠাকুর। উল্লেখ্য ছন্দা ও তার পরিবারকে টাকা লেনদেনের পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট সুপ্রভাতের কাছে সংরক্ষণ আছে।
শুধু কানাডা থেকে নয়, দেশে ফিরে মায়ের অনুরোধে ছন্দার হাতে কয়েক লাখ টাকা তুলে দেন শিব ঠাকুর। এবার ছন্দাকে বিয়ে করতে হলে শিব ঠাকুরকে একটি ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার শর্ত জুড়ে দেন মা পূর্ণিমা। এ শর্তও মেনে নিয়ে নগদ ৪-৫ লাখ টাকা ছন্দার মাকে দেন শিব ঠাকুর। এবার ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য ছন্দা ও তার মা আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করে বসলে সন্দেহ হয় শিব ঠাকুরের।
২০১৪ সালে দেশে ফিরে ছন্দাদের বাসায় গিয়ে কোথায় ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে এবং তা সরেজমিন দেখতে যাওয়ার কথা বললে পাল্টে যায় গণেশ। শিব ঠাকুরের উপর চরম ক্ষুব্ধ হন ছন্দার মা। তাকে অপমান করেন ছন্দা। এসময় টাকা ফেরত চাইলে শিব ঠাকুরের সাথে মেয়ে ছন্দাকে বিয়ে না দেওয়ার হুমকি দেন পূর্ণিমা।
এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার হুমকি দিলে সুর নরম হয় মা-মেয়ের। এবার বিয়ে করতে হলে ছন্দাকে কানাডা নিয়ে যাওয়ার শর্ত জুড়ে দেন মা। শিব ঠাকুরও পাল্টা শর্ত দিয়ে বলেন, আগে ছন্দাকে বিয়ে, তারপর কানাডায় নেব। ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের (নম্বর ২১৫৮৮/১৪) মাধ্যমে পরিবারের উপসি’তিতে ছন্দাকে বিয়ে করেন শিব ঠাকুর। তাদের বিয়ের হলফনামা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিয়ের পর শিব ঠাকুরকে স্বামী বলে স্বীকার করে বিভিন্ন ডকুমেন্ট কানাডায় পাঠান ছন্দা।
কানাডা গিয়ে প্রতি মাসে ছন্দার ভরণপোষনসহ যাবতীয় খরচ শিব ঠাকুর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক মানিগ্রামের মাধ্যমে পাঠাতে থাকেন। কিন’ গত ১ মার্চ শিব ঠাকুরকে না জানিয়ে কিংবা তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে ছিন্ন না করে ছন্দাকে তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। খবর পেয়ে কানাডা থেকে যোগাযোগ করলে শিব ঠাকুরকে চিনে না বলে জানান ছন্দা ও তার মা।
শিব ঠাকুর এ প্রসঙ্গে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘ছন্দা পারিয়াল আমার বৈধ স্ত্রী। এখন তারা বলছে আমাকে চিনে না। এটা অন্যায়। আমি প্রতারণার শিকার। আমি ন্যায় বিচার চাই।’ বক্তব্য জানতে গত দুই দিন একাধিক চেষ্টা করেও ছন্দার মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তাদের বাসার ল্যান্ড ফোনটির সংযোগও বিচ্ছিন্ন। পরে এ প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠালেও সাড়া পাওয়া যায়নি।