পটিয়ায় কোটি টাকার সার জব্দের ঘটনা

ইউএনওসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

পটিয়ায় কোটি টাকার টিএসপি সার জব্দ নিয়ে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন বিপাকে পড়েছে। সারের মালিক মেসার্স আমানত ট্রেডার্সের মালিক মো. ইউনুচ তালুকদার বাদি হয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ জ ম মঈনুদ্দিন ও পটিয়া থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহকে বিবাদি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুল কাদেরের আদালতে এ মামলা দায়ের হয়েছে।
ব্যবসায়ী ইউনুচের সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ৪ মার্চ জব্দ করেন। এ ঘটনায় দারোয়ান আবু বক্করকে আটক করেন। অবশ্য তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবসায়ীর কোটি টাকার এই সার ধ্বংস করতে গত ৬ মার্চ ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশকে পৃথক পৃথকভাবে চিঠি প্রদান করেন।
পুলিশ ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইউনুচ তালুকদারের নামে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এম.বি মাইমেরি মাদার ভেসেল নামের একটি সার বোঝাই জাহাজ শুল্ক পরিশোধের পর খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অন্য একটি জাহাজের ধাক্কায় এম.বি মাইমেরি জাহাজের একটি অংশ ফুটো হয়ে যায়। ওই সময় পানির আর্দ্রতায় ৭ হাজার ৪শ মেট্রিক টন টিএসপি সার নষ্ট হয়। বন্দরের পরিবেশ ও নদীর পানি দূষিত হওয়ার আশংকায় শিপিং এজেন্ট এইচ.সি মেরিন লিমিটেড নষ্ট হওয়া সার সরিয়ে নিতে মেসার্স আমানত ট্রেডার্সকে কর্ণফুলী নদীর যে কোন সুবিধাজনক স’ানে রাখার জন্য একটি ওর্য়াক অর্ডার প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিত ইউনুচ তালুকদার নষ্ট টিএসপি সার কর্ণফুলী নদীর শাখা খাল ভেল্লাপাড়া খালের পাড়ে এনে মজুদ করেন। এসব টিএসপি সারের গুণগতমান কমে যাওয়ায় তা খামার বাড়ি, মাছের ঘের ও চা বাগানে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওইসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের ঘটনাস’লে গিয়ে টিএসপি সার জব্দ করেন। ব্যবসায়ী ইউনুচ তালুকদার জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে
তার কোটি টাকার মূল্যের টিএসপি সার অবৈধভাবে জব্দ করে হয়রানি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ওই সার ধ্বংস করতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন’ বৈধ কাগজপত্র থাকার ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস কাজে এগিয়ে আসেনি। ইউএনও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে টিএসপি সার ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে ব্যবসায়ী ইউনুচ তালুকদারের অভিযোগ।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের বলেন, নষ্ট টিএসপি সার বাজারজাত করার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দকৃত সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন সার এখনো খোলা পড়ে রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। সারগুলো ধ্বংস করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের এডভোকেট কাজী জসিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার মক্কেলের কোটি টাকার টিএসপি সার ধ্বংসের নামে হয়রানি অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে ইউএনওসহ তিনজনকে হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।