বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আন্দোলন

ধর্মঘটের প্রভাব নেই নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি’র নেতৃত্বে বৃহত্তর চট্টগ্রামে তৃতীয় দিনের মতো গতকালও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১১-১৪ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে ধর্মঘট অব্যাহত রেখে সভা সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও নগরীর স্কুল-কলেজ-কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধর্মঘট খুব একটা পালিত হয়নি। তবে নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রাসঙ্গিক কারণে শহরে ধর্মঘটের প্রভাব খুব একটা না পড়লেও শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলের স্কুল-কলেজগুলোতে এটি জোরালোভাবে পালিত হয়েছে।
গতকাল সরেজমিন নগরীর কয়েকটি বেসরকারি স্কুল এবং কলেজে গিয়ে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্দোলনের কোন তোড়জোড় খুব একটা চোখে পড়েনি। বহদ্দারহাট, শুলকবহর, চকবাজার এবং কাতালগঞ্জের কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলেন, তারা আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করে আপাতত কোন ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছেন না, তবে স্কুলের ছেলেমেয়েদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন সেরে নিচ্ছেন।
নগরীর অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজেরা তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে গিয়ে চোখে পড়ে ক্লাস ভর্তি ছাত্রছাত্রীর উপসি’তিতে ক্লাস-পরীক্ষা যথানিয়মে চলছে। এ ব্যাপারে কলেজটির উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কুতুব উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, আমরা আন্দোলনের সাথে আছি, আবার ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে বলে দুদিকেই ভারসাম্য রেখে আমাদের চলতে হচ্ছে। আগামী মাসের শুরু থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শুরু, এ উপলক্ষে পরীক্ষার্থীদের কোচিং চলার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পরীক্ষাও চলছে বলে আন্দোলনটা খুব একটা দৃশ্যমান হচ্ছে না এ কলেজে।
কথা হয় চট্টগ্রাম জেলা শাখার কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, নগরীতে বেশিরভাগ স্কুল-কলেজ সরকারি কিংবা সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত। ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আবার আমাদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেনি। তাই নগরীতে আন্দোলনের প্রভাব খুব একটা না পড়লেও শহরতলী ও মফস্বলের স্কুল-কলেজগুলোতে বেশ জোরালো ভাবে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস’া জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুরূপ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের জন্যও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অবসর সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালু, অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, বেসরকারি স্কুলের প্রধান ও সহকারি প্রধানদের জন্য সরকারিদের অনুরূপ বেতন স্কেল প্রদান, নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিও প্রদানসহ ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার মতো যৌক্তিক ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি আজ ঢাকায় মহাসমাবেশ করছে। এখান থেকেই তারা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।