আজ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস

দখল, দূষণ পলি, বাঁধে বিপর্যস্ত নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Karnafuli-River_Rising-Land

দখল, দূষণ, পলি ও বাঁধে বিপর্যস্ত নদী। চট্টগ্রামের লাইফ লাইন খ্যাত কর্ণফুলী ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের অভাবে প্রায় মরতে বসেছে। উজানের ছড়াগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া, নদীর উপর বাঁধ দেয়া এবং দূষণের কারণে দেশের একমাত্র ইউনিক (অদ্বিতীয়) নদী হালদা হারাতে বসেছে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রটি। নদীতে পলি জমে চর জেগে ভরাট হয়ে যাচ্ছে সাঙ্গু ও মাতামুহুরির মতো নদীও। আজ ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস বা আন্তর্জাতিক নদী রক্ষায় করণীয় দিবস। এটি একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বে বেসরকারি পর্যায়ে পালিত হয়ে আসছে।
কর্ণফুলী নদীর তীরেই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। যুগ যুগ ধরে বহমান রয়েছে এই নদী। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি
রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডেলিং করা চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কর্ণফুলীকে বহমান রাখতে হবে। কিন’ অপরিকল্পিত নগরায়নের থাবায় তা আজ দখল, দূষণ ও পলি জমে বিপর্যস্ত। এই অবস’া থেকে নদী তথা চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে আইনগতভাবে কর্ণফুলী নদীর অভিভাবক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্পও নেয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পও ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ এবং পলি জমে কর্ণফুলীর অর্ধেক এলাকা পর্যন্ত চর জেগে উঠেছে। বিপন্ন প্রায় নদীতে আবারো ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন প্রকল্প নিলেও গত এক বছর ধরে তা শুরু হচ্ছে বলা হলেও বাস্তবে শুরুর কোনো সুখবর নেই। তবে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, কর্ণফুলীর ড্রেজিং কার্যক্রমে সুখবর রয়েছে। প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে শুধু পলি জমে ভরাটই নয়, চারপাশের শিল্পবর্জ্যে কর্ণফুলীর পানি দূষণ এবং উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় পানিতে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। লবণাক্ততার কারণে চট্টগ্রাম ওয়াসার হালদা পানি সরবরাহ প্রকল্পের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। হালদা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উজানের ছড়াগুলো বন্ধ করে দেয়া, বাঁধ দেয়া, শিল্পবর্জ্যের দূষণ ও মাটি উত্তোলনের কারণে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা আজ ঝুঁকিতে।
তিনি আরো বলেন, সাঙ্গু থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও উপকূলে তামাক চাষে বিপর্যস্ত হচ্ছে হালদা এবং মাতামুহুরী। এখনই এসব নদীকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে কর্ণফুলীর নদীর অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদের জন্য গত বছর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। এবিষয়ে চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, এভাবে দখল ও দূষণ প্রক্রিয়ায় দেশের নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় দেশে ১২শ’ চলমান নদীর নাম পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ২শ’র বেশি হবে না। শীতকালে চলমান নদীর সংখ্যা কমে ৬০-৬৫ টিতে নেমে আসে। নদীর এই পরিসি’তি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশের উপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার নদীপথ বিলুপ্ত হয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনঃরুজ্জীবিত করা জরুরি।