‘বিশ্ব গ্লুকোমা’ সপ্তাহ উদ্যাপন

দৃষ্টিনাশী গ্লুুকোমা রোগ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ

বিজ্ঞপ্তি
ctg-eye-13.03.18

‘আসুন, চোখের গ্লুুকোমা প্রতিরোধ করি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ – ২০১৮’ উদ্যাপন করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
১৩ মার্চ সকাল ৯ টায় ‘ বিশ্ব গ্লুকোমা’ সপ্তাহ উপলক্ষে পাহাড়তলীর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, গ্লুুকোমা মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ, চোখের নীরব ঘাতক। এটি চোখের এমন একটি জটিল রোগ, যাতে চোখের নার্ভ (অপটিক নার্ভ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধানত এ রোগে চোখের দৃষ্টিস্নায়ু ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে আসে। প্রথমে দৃষ্টি পরিধি কমে যায় এবং ক্রমে দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা হ্রাস পায়। অনেক সময় রোগী অন্ধত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী এই রোগের কোনো লক্ষণ অনুধাবন করতে পারে না। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা চালিয়ে গেলে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, দৃষ্টিনাশী গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যাঁরা চল্লিশোর্ধ্ব তাদের প্রত্যেকেরই উচিত চোখের যে কোন ধরনের উপসর্গের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
র্যালিতে উপসি’ত ছিলেন হাসপাতালের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যপক ডা. মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ওসমানী, আইসিও এর পরিচালক প্রফেসর ডা. খুরশীদ আলম, ডা. কামরুল ইসলাম, ডা. মর্তুজা নুরউদ্দিন, ডা. জেসমিন আহমেদ, হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. রাজীব হোসেন, ডা. ফিরোজ খান, ডা. সাজ্জাদ হোসেন, ডা. ওয়াহিদ আলম, ডা. ফারজানা আকতার চৌধুরীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এর আগে গ্লুকোমা সাপ্তাহ উপলক্ষে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে গ্লুকোমা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডা. সামস মো. নোমান।
সেমিনারে বলা হয়, গ্লুকোমা রোগীর চোখের প্রেসার, দৃষ্টিস্নায়ুর অবস’ান সম্পর্কে সবিশেষ মনোযোগ প্রদান করতে হবে। কোনমতেই যেন গ্লুকোমার মতো দৃষ্টিনাশী রোগটি আমাদের অসাবধানতা হেতু একজন ব্যক্তির জীবনে অন্ধত্বের মতো দুর্বিষহ অভিশাপ হিসেবে নেমে না আসে। সে দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির প্রথম দিনে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের দৃষ্টিনাশী গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে অবগত করেন।