জেলা শিল্পকলা একাডেমি

ক্যানভাসে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি

আজিজুল কদির

রঙ-তুলির আঁচড়ে বর্ণিল চিত্রকর্মে করুণ জীবনের প্রতিচ্ছবির দেখা মিলল চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে। শিল্পীদের অংকিত চিত্রকর্মে মিয়ানমারের শোষিত মানুষের, অনিশ্চিত জীবনের বলা-না বলা কথা উঠে এসেছে মানবিকতায়। বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার প্রতিবাদে নেমেছেন চিত্রশিল্পীরা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর চলা সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করতে রঙ, তুলির মমতায় ক্যানভাসে ফুটে উঠছে বিচিত্র জীবনছবির রূপায়ন।
বাস’চ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তার প্রত্যয়ে এ আর্ট ক্যাম্প। আর্ট ক্যাম্পে আঁকা শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে চিত্র প্রর্দশনীর।
মূল আয়োজন শুরু হয়েছে গত ৮ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার থেকে। এই পর্যন্ত ‘মানবতার জন্য শিল্প’ শীর্ষক মাসব্যাপী এই আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেয়া চারুকলার ২০০ এর অধিক চিত্রকর আড়াই হাজার ছবি আঁকেন। যেখানে বিমূর্ত ক্যানভাসে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের আয়োজনে মাসব্যাপী এই আর্ট ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ প্রদান করা হবে প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়ক তহবিলে।
রং-যেনো আর্তনাদ, আর তুলি যেনো প্রতিবাদের ভাষা হয়ে বিমূর্ত ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি আঙিনায় বিশ্ব মানবতাকে নাড়া দিতে এই শিল্প সংগ্রাম।
কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের আহ্বায়ক তানবীর সরওয়ার রানা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বব্যাপী ‘শান্তির অগ্রযাত্রা’ সমর্থন ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তার পাশাপাশি এ সমস্যার স’ায়ী সমাধানে বিশ্ব দরোজায় কড়া নাড়তে কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের এই প্রচেষ্টা। বিশ্বব্যাপী চিত্রশিল্পীদের একটি করে চিত্রকর্ম দান করার আহ্বানে বিশ্বব্যাপী চিত্রশিল্পীরা সাড়া দিতে শুরু করেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যার স’ায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চিত্রশিল্পীদের নিয়ে এই আর্ট ক্যাম্প পরিচালনা করে যাব’।
ক্যাম্পে আগত চিত্রশিল্পী প্রণব কুমার জানালেন, ‘বিশ্বকে জানাতে চায় রোহিঙ্গা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার স’ায়ী সমাধান চাই। সেই সাথে নির্যাতিত নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আয়োজকরা আরো জানান, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরের পর টোকিও, নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এই চিত্র প্রদশর্নী আয়োজনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলকে একত্রিত করা এবং বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিরবার্তা পৌঁছাতেই এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই ক্যাম্প ও প্রদর্শনী চলবে। আর এখানে যে কেউ এসে ছবি আকঁতে পারবেন।