নর্দান হিলস, জয় পাহাড়

গাছের গোড়া পাকা করে এক বছর পর বোধোদয়

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

সেই কবে বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু বলে গিয়েছেন, ‘গাছেরও প্রাণ আছে!’ অথচ আমরা দুপেয়ে মনুষ্য জাতি কখনও-কখনও তা বেমক্কা ভুলে যাই। করে বসি তাদের সাথে নির্দয় আচরণ। নগরীর সার্সন রোডের পূর্ব পাশে অবসি’ত জয়পাহাড়স’ নর্দান হিলসের গাছগুলো দেখলে একজন সংবেদনশীল ব্যক্তির সে কথাই মনে হবে।
এক বছরেরও বেশি সময় আগে জয়পাহাড়ের সরু পাকা রাস্তার পাশে অবসি’ত ছোট-বড় গাছগুলোর তলা পাকা করে দেয় পাহাড়ি এলাকাটির
শেষ পৃষ্ঠার পর

স্বত্ত্বাধিকারী জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি। সময়ের সাথে সাথে গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গোড়ার চারপাশের পাকা অংশের স’ানে স’ানে ফাটল ধরে। একবছর পর এসে তা দেখে কর্তাব্যক্তিদের বোধোদয় হয় এবং গাছের গোড়া থেকে পাকা অংশ ভেঙে ফেলে গাছগুলোকে শ্বাসরূদ্ধকর অবস’া থেকে অবশেষে পরিত্রাণ দেয়।
ব্যাপারটি স’ানীয়দের অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কর্তৃপক্ষের এহেন নির্বুদ্ধিতার জন্য অনেকে হাসি-ঠাট্টা করতেও ছাড়ে না। কিছুটা ব্যঙ্গ করে একজন বিশিষ্ট স’পতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা পোস্ট শেয়ার করেন। বিপন্ন বৃক্ষগুলোর ছবি দিয়ে তিনি লেখেন : ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না। করিয়া ভাবিলেও ক্ষতি নাই- জীবন বাঁচাতে গেলে!’
এরপর তিনি লেখেন, ‘এক বছরের অধিক ইট-সিমেন্টে বন্দি থাকার পর সম্ভবত কর্তাব্যক্তির নজরে পড়ে গাছগুলো অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে!’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-(সিডিএ) এর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ‘যে রাজমিস্ত্রী গাছের গোড়াসহ টিলার ঢাল পাকা করে দিয়েছে তার পক্ষে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, উদ্ভিদের ইকোসিস্টেম তথা বাস’সংস’ান এগুলো বুঝার কথা না। সে বোঝেওনি। কিন’ পাহাড়ের মালিক নিজেও বুঝেনি বৃক্ষ ও গাছগাছালি ইট-পাথর দিয়ে বন্ধ রাখার বিষয় নয়। এগুলোকে নিজের মতো ডালপালা, শাখা-প্রশাখা ও মূল প্রসারিত করার সুযোগ দিতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি সন্দেহ করছি, গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পেভমেন্ট ফেটে যাচ্ছে দেখে মালিক শেষ পর্যন্ত গাছের গোড়া থেকে পাকা অংশ তুলিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বৃক্ষপ্রীতি থেকে এ কাজটা করলে এক বছর সময় নিত না।’
শাহীনুল খানের মন্তব্যের প্রতি-উত্তরে আরেকজন লিখেছেন, ‘পাহাড়ের মালিক বিশাল সম্পদশালী। গাছপালা নিয়ে ভাবার সময় বা মানবিকতা তাঁর কোথায়?’