ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত

আতেফের খুনি সহপাঠী উইংসন

ভারতীয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
rafiq-news-pic-atef-(left)-

ইউনিভার্সিটি অফ সাইয়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি)’র ভারতীয় শিক্ষার্থী মো. আতেফ শেখকে আর কেউ নয়, তার সহপাঠী মাইসনাম উইনসন শিং-ই গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। খুনের ৮ মাস পর পাওয়া ডিএনএ পরীক্ষা, মেডিক্যাল রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ইউএসটিসির ভারতীয় শিক্ষার্থী আতেফ শেখকে তার সহপাঠী একই দেশের মাইসনাম উইনসন শিং ছুরিকাঘাত করে
খুন করে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সহপাঠীদের মদের পার্টিতে এ ঘটনা ঘটেছিল। আতেফ শেখ মণিপুর রাজ্যের আবদুল হামিদ শেখের ছেলে। ইউএসটিসি’র এমবিবিএস এর ছাত্র ছিলেন আতেফ।
পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আতেফের বন্ধু গানঞ্জমাই ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করে। বন্ধু উইনসন ঘটনার বিষয়ে কিছুই মনে করতে পারছে না বলে জানায়। এদিকে আদালতের নির্দেশে ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।
ওই বোর্ড জানায়, ‘উইনসন মানসিকভাবে সুস’।’ এরপর নীরাজ ও উইনসনের ডিএনএ ও ছোরার বাটের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষায় উইনসনের সঙ্গে ডিএনএ-এর মিল পাওয়া যায়। নিরাজের সাথে পাওয়া যায়নি। ‘ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আতেফ খুনে উইংসন শিং এর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সে কি কারণে সহপাঠী আতেফকে খুন করেছে তা জানতে আবার উইংসনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পিবিআই সূত্র জানায়, ডিএনএ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আতেফ শেখকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে তারই বন্ধু মামলার আসামি মাইনসাম উইনসন শিং। ঘটনার পর পর নিজের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মাইনসাম উইনসন।
‘গত ৮ মার্চ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ পরীক্ষক মো. হারুন-অর-রশিদ পিবিআই’র কাছে পরীক্ষা প্রতিবেদন পাঠান। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বন্ধু মাইসনাম উইনসনই আতেফের খুনি হিসেবে সাব্যস্ত হন’ বলেন পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই রাতে আকবর শাহ থানার আবদুল হামিদ রোডে লেকভিউ সোসাইটির হাজি ইউসুফ ম্যানশন থেকে গলাকাটা অবস’ায় আতেফ শেখ এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর আহত উইনসনকে উদ্ধার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নেয়ার পর আতেফকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এসময় সহপাঠী নিরাজকে আটক করে পুলিশ। উইনসনকে মামলায় গ্রেফতার দেখায় পিবিআই।
ডিএনএ টেস্টে আতেফ ‘খুনি’ নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার পিবিআই’র সদর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন পরিদর্শক সন্তোষ। এতে বলা হয়, ঘটনার রাতে লেকভিউ সোসাইটির হাজি ইউসুফ ম্যানশনের ফ্ল্যাটে মদের পার্টির আয়োজন করেন মাইনসাম উইনসন শিং, গানঞ্জমাই নীরাজ, তোঙ্গবরম জয়েস্তানা দেবী, প্রভাকর লাইসরাম, মালেমনগনবা মায়েংবাম, অথোকপাম রোনাল্ড, প্রমোশ চাকমা টুকু এবং সজল চাকমা মুন। তারা সবাই ভারতীয় এবং ইউএসটিসি’র শিক্ষার্থী। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে উইনসন শিংয়ের কক্ষে খুন হন আতেফ।