দুর্নীতি মামলায় জামিন, নাশকতা মামলায় পরোয়ানা

খালেদার জামিন হলেও ঝুলে রইলো মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চার মাসের জামিন পেলেন বিএনপির চেয়ারপারন খালেদা জিয়া। এতে ‘আংশিক’ খুশি হয়েছেন বিএনপি নেতারা। কারণ, নেত্রীর মুক্তি নিয়ে শংকাটা থেকেই গেলো। গতকাল দুর্নীতি মামলায় জামিন মঞ্জুরের দিনে কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখানো হলো।
গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।
এ সময় আদালত বলেন, খালেদা জিয়া বয়স্ক নারী। তাঁর শারীরিক নানা জটিলতা আছে। এসব বিবেচনা করে তাঁকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হলো।
আদেশের আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী গতকাল কিছু বলেননি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘এ মামলাটি স্পর্শকাতর। বিচারিক আদালত খালেদা জিয়ার বয়স ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে তাঁকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
এরপর চার বিষয় বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। জামিন মঞ্জুর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। অপরদিকে বাদিপক্ষে রয়েছে অসন’ষ্টি। জামিনের বিরোধিতা করে আজ মঙ্গলবারই তারা চেম্বার আদালতের কাছে আপিল করবেন বলে জানা গেছে।
২০ ফেব্রুয়ারি সাজার রায় হওয়ার পর জামিন চেয়ে আপিল করেন খালেদা জিয়া। জামিন আবেদনের শুনানির পর নিম্ন আদালতের নথি আসলে আদেশ দেবেন বলে জানান হাইকোর্ট। গতকাল দুপুরে ওই বেঞ্চে ৫ হাজার ৩২৮ পৃষ্ঠার নথি পৌঁছায়।
২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় খালেদা
জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের দিন থেকেই পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
এদিকে, গতকাল জামিন আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, জামিনের আদেশের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছালেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি মূলত ঝুলেই গেলো। গতকাল একদিকে জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হলেও, আরেকদিকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপি নেত্রীকে। কুমিল্লায় গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজিরার পরোয়ানা গতকালই পুরান ঢাকার কারাগারে পৌঁছায়। ফলে খালেদার মুক্তির সামনে এই বিষয়টিই এই মুহূর্তের প্রতিবন্ধকতা। তাঁকে আগামী ২৮ মার্চ ওই আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে কুমিল্লার আমলি আদালত-৫ এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মুস্তাইন বিল্লাহ ওই আদেশ দেন। হাজিরা পরোয়ানা ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হলে আগুনে পুড়ে আটজন যাত্রী নিহত হন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল সোমবার গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়ে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে আদালতের বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৮ মার্চ তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।