রোহিঙ্গা সংকট সমাধান

দ্রুত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন

রোহিঙ্গা সংকটের ৬ মাস পার হলেও সমাধানের আশু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি হলেও ফেরত যাওয়ার প্রশ্নে কোন অগ্রগতি নেই বরং এ আশংকা বাড়ছে যে, আদৌ তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সদিচ্ছা আছে কিনা? মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদীরা রোহিঙ্গা বিরোধী যে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এখনও সেখানে যে প্রক্রিয়ায় নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তাদের ওপর, তাতে একটি জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করে ফেলার সকল অপপ্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে। জাতিসংঘ কিংবা মানবাধিকার গোষ্ঠী, গণমাধ্যমকর্মীদের এখনো রোহিঙ্গা এলাকায় যেতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
তাদের এহেন কার্যকলাপে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এই আশংকা দৃঢ়মূল হচ্ছে যে, তারা স্বদেশে ফিরে গেলে তাদের জন্য অনিরাপদ ও কঠিন জীবনই অপেক্ষা করছে।
এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আগামী দিনগুলোতে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মানবিক সাহায্য কার্যক্রম যা এতদিন চলছিল তা ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়েছে। আগামী মার্চ থেকে ডিসেম্বর এর জন্য অর্থ জোগাড় করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে তারা মনে করছেন। আগামী ১০ মাসে তাদের জন্য প্রয়োজন ৮০০০ কোটি টাকা। এ অর্থ জোগাড় করতে জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে জেনেভাতে বৈঠক ডেকেছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য কর্মসূচিতে তিন লক্ষাধিক স’ানীয় অধিবাসীকে যুক্ত করা হয়েছে কেননা তাদের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস’ান রোহিঙ্গাদের কারণে অনিশ্চিত হয়েছে।
প্রথমদিকে জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সংগঠন থেকে যে সাহায্য পাওয়া গিয়েছিলো তা কমে আসছে, পরিসি’তির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ-আবেগও হয়তো কমে আসবে। এই পরিসি’তি বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে কেননা সীমিত সামর্থ নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘসময় তাদের প্রয়োজন কিভাবে মেটাবে? এমনিতেই স’ানীয় পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য হুমকি হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গাদের কারণে।
বাংলাদেশের অব্যাহত কূটনৈতিক চেষ্টাও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মানবিক সমর্থন এসব সত্ত্বেও এই সংকটের সমাধানে বৃহৎ শক্তিগুলির সক্রিয় ভূমিকা যা মিয়ানমারকে সংকট সমাধানে বাধ্য করতে পারে, তা দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত-জাপানের মতো বড় শক্তিগুলি মানবতার এই বিপর্যয়ে নিশ্চুপ, তাদের কাছে ফ্যাসিবাদি দেশটি থেকে অর্থনৈতিক লাভালাভ মুখ্য।
আমরা মনে করি রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সহযোগিতা পেতে আমাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ, প্রচার প্রচারণা জোরদার করতে হবে, যাতে জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় বিশ্ব সম্প্রদায় এগিয়ে আসে। মুসলিম বিশ্বের সাহায্য পেতে আমাদের বিশেষ প্রচেষ্টা নিতে হবে।