কিমের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প

‘হয় ব্যর্থতা অথবা সময়ের সেরা চুক্তি’

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওই বৈঠক হয়তো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। অন্যথায় এ থেকে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে ‘দুনিয়ার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ চুক্তি’ বের হয়ে আসবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটা হবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট ডিল ফর দ্য ওয়ার্ল্ড।’ শনিবার ওয়েস্টার্ন পেনসিলভানিয়ায় দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থী রিক স্যাকোন-এর এক নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই ভাষণ দেন ট্রাম্প। খবর বাংলাট্রিবিউন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় যদি অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মনে হয়, তাহলে আমি দ্রুত সরে আসবো। তবে আমি বিশ্বাস করি, উত্তর কোরিয়া শান্তি চায়। ফলে এটাই সঠিক সময়।
সম্ভাব্য ওই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ এ বৈঠক হতে পারে।
এদিকে দুই নেতার সম্ভাব্য এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়। এরইমধ্যে জাতিসংঘ, রাশিয়া, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া ওই উদ্যোগের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে এ নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক। তিনি জানান, মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ট্রাম্প-কিমের সম্ভাব্য ওই বৈঠকের ব্যাপারে উৎসাহী।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব সংশ্লিষ্ট সবার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির তারিফ করেছেন। নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কোরীয় উপদ্বীপের শান্তিপূর্ণ অপারমাণবিকীকরণ প্রচেষ্টায় তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মস্কোর প্রত্যাশা দুই পক্ষের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ থেকেই এটা একটা ইতিবাচক ইঙ্গিত। বেইজিং এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং কুয়াং-উয়াহ বলেছেন, তার দেশ সম্ভাব্য এ বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করছে।
এর আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে থেকে পাওয়া সাক্ষাতের আমন্ত্রণ গ্রহণের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প এ কথা জানান। ওই কর্মকর্তারাই কিমের আমন্ত্রণ ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন। গত কয়েক মাসে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর বিভিন্ন পর্যায়ের অবরোধ আরোপ করে আসছে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন আরও একটি অবরোধ আরোপ করলে দেশটির তেল আমদানি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
ওই অবরোধের পরও বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার মিসাইলের সফল পরীক্ষার দাবি করে উত্তর কোরিয়া। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে আগ্রহ দেখালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সপ্তাহের গোড়ার দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে এক অভূতপূর্ব বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে পরই কিমের বার্তা পৌঁছে দিতে ওয়াশিংটননে ছুটে যান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, পারমাণবিক ও মিসাইল পরীক্ষার কর্মসূচি স’গিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশ নেওয়ার পর স্বাভাবিক হতে থাকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলাপের কোনও বিষয় নেই দাবি করে ট্রাম্প এই অগ্রগতিকে বলেছেন, মহান অগ্রগতি। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে অবরোধ বলবৎ থাকবে বলেও জানান তিনি।