পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদ

আইন কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন বয়কট ছাত্রদলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

কলেজ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখার প্রতিবাদে আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও নির্বাচন বয়কট করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল। গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল হোসেন রবি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ১ ফেব্রুয়ারি কলেজ নোটিশবোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারি, আগামী ৩ মার্চ চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন। ১১ ফেব্রুয়ারি আরেকটি নোটিশের মাধ্যমে তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১০ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম নোটিশের বিধিমালায় প্রদত্ত ধারা নম্বর ১ অনুযায়ী প্রথম ও
দ্বিতীয় বর্ষের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) ক্লাস রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত নিয়মিত ছাত্রছাত্রীরা ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন’ ১১ ফেব্রুয়ারির নোটিশে তা পরিবর্তন করে ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘যাহারা ইতিপূর্বে ফাইনাল পরীক্ষায় বা মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়াছে, বা উত্তীর্ণ হইয়াছে তাহারা কোনো অবস’ায় পুনঃভর্তি হইতে পারিবে না এবং ভোট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না। ভুলক্রমে অথবা অসাবধানতাবশত যদি উল্লিখিত কোনো ছাত্রছাত্রী পুনঃভর্তি হইয়াও থাকে; তাহারা কোনো অবস’ায় ভোটার বা প্রার্থী হইতে পারিবে না।’
রবিউল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনে করে, আমাদের নির্দিষ্ট কয়েকজন জনপ্রিয় কর্মীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার দুরভিসন্ধির অংশ হিসেবে এ ধরনের বিধিমালা সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। কারণ, অতীতে সব সময়ই ১ ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত বিধিমালার ১ নম্বর ধারা অনুযায়ীই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ছাত্রদলের সাথে কোনো রূপ আলোচনা ছাড়াই নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন/ভোটারের যোগ্যতা পরিবর্তন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার তথা প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা আমাদের মনে বিশেষ সন্দেহের উদ্রেক করেছে।’
রবিউল হোসেন রবি জানান, গত বছরের নির্বাচনে আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ছাত্রসংসদ কার্যালয় বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত ও আপত্তি জানানোর পরও তাদের পরোক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সংসদ অফিসকে তাদের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদেরকে প্রভাবিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিল। এমতাবস’ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রশাসনের অনুরূপ রহস্যজনক ভূমিকা আমাদের উদ্বিগ্ন ও সন্দেহপ্রবণ করেছে। সুতরাং এ ধরনের আজ্ঞাবহ প্রশাসনের অধীনে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে আমরা কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে করি না।
রবিউল হোসেন রবি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গণতান্ত্রিক আচরণ, পরিবেশ এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহবস’ানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা শত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকি। কিন’ বর্তমানে কলেজ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদে নির্বাচন বয়কট করে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সাংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন আইন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট এস. এম ইকবাল, আইন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জায়েদ বিন রশীদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, সহ-সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, এছলাহ উদ্দিন সুমন, দপ্তর সম্পাদক কাউছার হোসেন, ছাত্রনেতা আবদুস সবুর।