মাঠে নির্মাণাধীন পার্কের কার্যক্রম দেখলেন গণপূর্ত মন্ত্রী

জুনে উন্মুক্ত হতে পারে জাম্বুরি পার্ক

থাকবে না ফুডকোর্ট, কর্ণফুলী পার্কের জায়গায় হবে খেলার মাঠ, বায়েজিদেও হচ্ছে আরেকটি পার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
Eng_Mosharof-(5)

আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠে নির্মাণাধীন জাম্বুরি পার্ক জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে আগামী জুনে। এ লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে চলছে উন্নয়নযজ্ঞ। মাঠের চারপাশের সীমানা দেয়াল ও গেট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও মাঠের ভেতরে চলছে জলাধার নির্মাণকাজ। ওয়াকওয়েসহ অন্যান্য স’াপনা নির্মাণ মে মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। গতকাল মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এমন আশাবাদ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
জাম্বুরি পার্কের নকশায় পার্কের ভেতরে ফুড কোর্ট নির্মাণের কথা ছিল। তবে গতকাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ফুড কোর্টে পরিবেশ বিনষ্ট হবে। তাই এই পার্কে কোনো ফুড কোর্ট করা যাবে না। তবে বিকল্প কী করা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা পার্কের মধ্যে জিম জাতীয় কিছু নির্মাণের পরামর্শ দিলে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আরো পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এই মাঠটিকে পার্ক করায় এলাকায় মাঠের সঙ্কট দেখা দেবে এমন আশংকায় স’ানীয়রা মানববন্ধন করেছিল, এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কর্ণফুলী শিশু পার্কটি আমাদের জায়গায় রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্ণফুলী শিশুপার্ক পরিচালনা করছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের একটি মামলায় আমাদের পক্ষে রায় হওয়ার পর এখন নিম্ন আদালতে আরো একটি মামলা করেছে সিটি কর্পোরেশন। তা নিষ্পত্তি হলেই সেই জায়গায় মাঠ নির্মাণ করা হবে। কিন’ ওখানে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে মন্ত্রীর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রকল্পের জন্য আরো একটি জায়গা শনাক্ত করেছে। তাই আপাতত এখানে নভোথিয়েটার হচ্ছে না।
গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মানুষের বিনোদনের
তেমন ব্যবস’া নেই। তাই এই পার্কের পাশাপাশি বায়েজীদ ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের আগে হাতের বাম পাশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি খালি জায়গা রয়েছে, সেই জায়গায় আরো একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিনামূল্যে প্রবেশযোগ্য জাম্বুরি পার্কে ৬টি গেইট থাকবে। সিজিএস কলোনি ও বিএসটিআই অফিসের দিকে থাকবে দুটি গেইট এবং কর্ণফুলী শিশু পার্ক ও আগ্রাবাদ সরকারি কার্য ভবন-২ এর দিকে থাকবে একটি করে গেইট। পুরো এলাকাটি সীমানা পিলার ও রড দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে। যাতে ভেতরের সবকিছু বাইরে থেকে দেখা যায়। থাকবে ৭০০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট চওড়া ওয়াকওয়ে এবং ২০ ফুট পর পর পার্ককে সামনের দিকে রেখে বসার জন্য বেঞ্চ বসানো হবে। ওয়াকওয়ের মাঝখানে থাকবে ঘাস এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ। এসব গাছের কোনোটি বড় আবার কোনোটির উচ্চতা হবে কম। দর্শনার্থী পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক টয়লেট সুবিধা থাকবে। পুরো পার্কটি পরিচালনার জন্য একদিকে অফিস রাখা হয়েছে। থাকছে পাম্প হাউস ও পাওয়ার স্টেশন। পার্ককে আকর্ষণীয় করতে ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি লেক থাকবে, সেই লেকে দুটি ঝর্নাও থাকবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহি প্রকৌশলী আহমেদ আবদুল্লাহ নূর বলেন, ‘১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় প্রকল্পের কাজ ২০১৬ সালের জুনে শুরু হলেও গত বছরের জুনে তা সংশোধন হয়। সংশোধিত হয়ে প্রকল্পটি ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকায় অনুমোদন হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের আওতায় সীমানা দেয়াল, মাঠের অভ্যন্তরে বড় নালা, অভ্যন্তরীণ ড্রেন নির্মাণ হয়ে গেছে। জলাধারের নির্মাণকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর তা হলে গেলেই ওয়াকওয়ে এবং গাছ রোপণের কাজ শুরু হবে। আগামী জুনে আমরা তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’
উল্লেখ্য, গতকাল মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় উপসি’ত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগে সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও জাম্বুরি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মিহির চক্রবর্ত্তী ও নির্বাহি প্রকৌশলী আহমেদ আবদুল্লাহ নূর, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ।