চমেক হাসপাতাল

জনবল সংকটে ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

১৩শ শয্যায় জনবল ৫শ শয্যার ষ নিয়োগ বন্ধ ১২ বছর ষ বেশি শূন্য পদ নার্সিংয়ে ষ সর্বমোট পদ খালি ৫৪২টি

সিফায়াত উল্লাহ

জনবল সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। ১ হাজার ৩১৩ শয্যার হাসপাতালটি চলছে ৫শ শয্যার জনবলে। ফলে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০০ শয্যা নিয়ে শুরু হওয়া হাসপাতালটিতে বর্তমানে অনুমোদিত শয্যা এক হাজার ৩১৩টি। তবে জনবল এখনো ৫শ শয্যার। এরমধ্যে অনুমোদিত
পদের সংখ্যা ১৯৪২টি। বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫শ জন। বাকি ৫৪২টি পদ শূন্য। প্রতিদিন হাসপাতালের ইনডোরে ভর্তি থাকছেন প্রায় আড়াই হাজার রোগী। অল্প জনবলে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে ব্যাহত গিয়ে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
জানা যায়, হাসপাতালে নার্স সংকট দীর্ঘদিনের। এরমধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ২৫৬ শূন্য পদ রয়েছে নার্সিং কর্মকর্তার। প্রায় আড়াই হাজার রোগীর সেবায় বর্তমানে নার্স আছেন ৭৮০ জন। এদের মধ্যে অন্যত্র সংযুক্তি, নার্সিং কলেজে ক্লাস নেওয়া, মিডওয়াইফ এ প্রশিক্ষণ, অসুস’তা ও ছুটিসহ নানা কারণে অনুপসি’ত থাকেন অনেকেই।
অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণির পদ শূন্য রয়েছে ১২৮টি। তৃতীয় শ্রেণিরও ৪৯টি পদ শূন্য। উভয় শ্রেণির পদগুলোতে রয়েছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ওয়ার্ডবয়, দপ্তরী, সিকিউরিটি গার্ড, সর্দার, অফিস সহায়ক। যারা হাসপাতালে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। কিন’ এতগুলো পদে জনবল না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাসপাতালের রোগীরা।
ভুক্তভোগী রোগীরা বলছেন, সামান্য সেবা দিতে একজন নার্সকে কয়েকবার ডাকলেও আসে না। ওয়ার্ডবয়গুলো টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না। হাটহাজারী থেকে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আসেন প্রসূতি শান্তা আকতার। ৩৩ নম্বর গাইনী ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন তিনি।
শান্তা আকতার বলেন, কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে বলেও না। উল্টো ধমক দেয় তারা। রোগীদের তারা মানুষ মনে করে না। আয়া-ওয়ার্ডবয়দের দুর্ব্যবহার এখানের নিয়ম।’
এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিসিন ওয়ার্ডের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সেবা দিতে। কিন’ একজন মানুষের পক্ষ এত রোগীকে সেবা দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না।’
এদিকে মেডিসিন ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, রাতে কেবিনের নিচে ওষুধ রেখে ঘুমাইছি। সকালে উঠে দেখি ওষুধ নাই। ওয়ার্ডবয়কে জিজ্ঞেস করলে, তার দায়িত্ব পাহারা দেয়া কিনা উল্টো আমাকে জিজ্ঞেস করে।’
জানা যায়, হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি গার্ডের পদ রয়েছে ২১টি। এরমধ্যে কর্মরত আছেন ১৬জন। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। তবুও হাসপাতালে ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ওষুধ চুরি, গাড়ি চুরি ও পুলিশের উপর অতর্কিত হামলাসহ নানা কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ। ফলে অনেকগুলো পদই খালি পড়ে আছে। বিপরীতে প্রতিবছরে অবসরে যাচ্ছেন অনেকেই। তাই দিন দিন বাড়ছে শূন্য পদের সংখ্যা। ফলে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
জনবল সংকট সমাধানে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, এ হাসপাতালে প্রতিনিয়তই থাকে রোগীর চাপ। হাসপাতালের ৩৭টি ওয়ার্ডে প্রতিদিনই গড়ে নতুন রোগী ভর্তি হন পাঁচ থেকে ছয়শ। বিপরীতে আমাদের অনুমোদিত জনবল হচ্ছে পাঁচশ শয্যার। কিন’ শয্যা অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস’্যসেবা।
পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। শয্যা না থাকা সত্ত্বেও ফ্লোর কিংবা অন্যত্রে রোগী ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এজন্য আমরা বেসরকারিভাবে কিছু কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। অন্যদিকে হাসপাতালে নতুন নিয়োগের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। আশা করি শীঘ্রই নতুন জনবল নিয়োগ দেয়া যাবে।’