ডবলমুরিং-কোতোয়ালীতে বিতরণ হয়নি ৪০ শতাংশ কার্ড

ফেরত যাচ্ছে স্মার্টকার্ড

সিফায়াত উল্লাহ
Sifat.News.NID-Frame

নগরীর কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানায় শেষ হয়েছে উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম। বর্তমানে বিতরণ চলছে পাহাড়তলী ও চান্দগাঁও থানায়। তবে কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০
শতাংশ কার্ড বিরতণ হয়নি। যেগুলো ফেরত এসেছে জেলা নির্বাচন অফিসে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. আবুল খায়ের সুপ্রভাতকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোতোয়ালি ও ডবলমুরিং থানার কিছু এলাকায় প্রায় লোকজন কার্ড পেয়েছেন। তবে কিছু লোক এখনো কার্ড নেয়নি।
তিনি বলেন, অনেকেই সময় বা বিভিন্ন কারণে স্মার্ট কার্ড তুলতে পারেনি। তাদেরকে জেলা নির্বাচন অফিস বিশেষ ব্যবস’ায় কার্ডগুলো দিচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন জেলা নির্বাচন অফিস থেকে কার্ডগুলো নেয় যাবে। এরমধ্যে কোতোয়ালী থানার বাসিন্দারা রবিবার ও মঙ্গলবার কার্ড তুলতে পারবেন। এরমধ্যে একদিন আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি দিবেন। অন্যদিন কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন। একই নিয়মে মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার স্মার্টকার্ড তুলতে পারবে ডবলমুরিং থানার বাসিন্দারা।’
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিতরণের সময় শেষ হলেও যারা স্মার্টকার্ড তুলতে পারেননি, তারা মূল আইডি কার্ড ও ফটোকপি নিয়ে নিয়ে ওই নির্বাচনী থানার কর্মকর্তার কাছে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে দশ আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি দিবেন। পরে কর্মকর্তা স্মার্টকার্ড নিয়ে যাওয়ার দিন জানাবেন। এরপর আবারো অফিসে এসে কার্ডটি নিয়ে যাবেন।
এছাড়াও যাদের কাছে মূল আইডি কার্ড থাকবে না, তাদেরকে স্মার্ট কার্ড নিতে গুনতে হবে জরিমানা। এজন্য সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় অনলাইনে সার্ভিস চার্জসহ প্রতিটি হারানো বা খুঁজে না পাওয়া আইডি কার্ডের জন্য জমা দিতে হবে ৩৬৮ টাকা। পরে ব্যাংকের রশিদ দেখিয়ে থানা নির্বাচনে অফিসে বাকি কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসার মনির হোসেন খান বলেন, থানা নির্বাচন অফিস থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় ঘোষণা দেয়া হয়। কেউ সেই সময় তুলতে না পারলে বিশেষ ব্যবস’ায় তুলে নিতে পারবেন। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত নির্দিষ্ট দিনে স্মার্টকার্ড তোলা যাবে।’
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের সকল ভোটারকে স্মার্টকার্ড দিতে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১৬ সালের জুন মাসে কার্ডগুলো বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন’ নানা জটিলতায় সেটি পিছিয়ে যায়। ইসি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক ভোটারের কাছে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা বললেও সেটি আরও বছর দুয়েক লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা।
জেলা নির্বাচন অফিসার মনির হোসেন বলেন, নগরীর দুইটি থানা বিতরণ কার্যক্রম শেষ হলো। চলছে আরো দুটিতে। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোতে শুরু হবে বিতরণ। এরমধ্যে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এরআগে কার্ডগুলো বিতরণের টার্গেট নিয়ে কাজ করছি আমরা।’